মাদক নয়, তরুণদের হাতে খেলাধুলার সরঞ্জাম তুলে দিতে হবে। খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চাই পারে একটি সুস্থ, মেধাবী ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে।” এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
সোমবার (১১ মে) বিকেল সাড়ে ৫টায় ঝালকাঠিতে ১১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে “নতুন কুড়ি স্পোর্টস-২০২৬” এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি’ কার্যক্রম চালু করেছিলেন। সেই উদ্যোগ শুধু বিনোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং নতুন প্রজন্মকে সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা ও শৃঙ্খলার পথে এগিয়ে নেওয়ার একটি দূরদর্শী পদক্ষেপ ছিল। আজকের ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ সেই স্বপ্নেরই আধুনিক ও বিস্তৃত রূপ।
তিনি আরও বলেন, ঝালকাঠি শুধু একটি জেলা নয়, এটি দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য ভাণ্ডার। সুগন্ধা, বিষখালী ও ধানসিঁড়ি নদীবেষ্টিত এ জনপদ একসময় নৌ-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। ঝালকাঠির পেয়ারা বাগান দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পরিচিতি পেয়েছে। ভাসমান পেয়ারা হাট, নদীপথের জীবনধারা ও গ্রামীণ সংস্কৃতি এই জেলার স্বতন্ত্র পরিচয় বহন করে।
তিনি বলেন, ঝালকাঠির সেই ঐতিহ্য ও সম্ভাবনাকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে ধানসিঁড়ি ইকোপার্কে দেশের প্রথম “সাংস্কৃতিক ভিলেজ” গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেখানে জারি-সারি গান, পালাগান, গ্রামীণ লোকজ সংস্কৃতি, বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্যবাহী খাবার ও কৃষ্টিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হবে। পর্যটন শিল্প বিকাশের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, দেশের অনেক জেলার নামে বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প থাকলেও ঝালকাঠি দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। তবে সেই পরিস্থিতি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই “ঝালকাঠি উন্নয়ন প্রকল্প”-এর ডিপিপি চূড়ান্ত করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জেলার চার উপজেলায় সড়ক, সেতু, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক উন্নয়ন হবে। এতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন যেমন ঘটবে, তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।
স্বাস্থ্যখাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, একটি সুস্থ জাতি গঠনে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। গ্রামের মানুষ যাতে সহজে আধুনিক চিকিৎসাসেবা পায়, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও তরুণদের মাদকমুক্ত রাখতে খেলাধুলা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, উন্নয়ন কখনো এককভাবে সম্ভব নয়। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগই পারে ঝালকাঠিকে একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় জেলায় পরিণত করতে।
জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাৎ হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জেলা প্রশাসক মো. কাওছার হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেগুফতা মেহনাজ, রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি এবং ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট আককাস সিকদারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
মন্তব্য করুন