মনজুর ইলাহী শাহীন : পিতার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ দিয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের বস্ত্র অধিদপ্তরে সুপারিনটেনডেন্ট (ষষ্ঠ গ্রেড) পদে ৪/০৪/২০১৮ সালে নিয়োগ পেয়ে আট বছর ধরে বহাল তবিয়তেই চাকরি করছেন মোঃ রেজাউল করিম। ভুয়া কাগজের জন্য পিএসসির বোর্ডে কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরপরই শুরু হয় তার বিড়ম্বনা। সাথে সাথে পিএসসি বোর্ড রেজাল্ট আটকে দেয় ও ফলাফল স্থগিত করে। ৩১/–/২০১৭ তারিখে পিএসসির স্মারক নম্বর ৮০.০০——–০১——৩৭ তে প্রশাসনিক ও তথ্য বিভ্রাটজনিত কারণে রেজাউল করিমের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ০০০০৩৬ এর ফলাফল আপাতত স্থগিত করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়। পিএসসি রেজাল্ট স্থগিত করলে চতুর রেজাউল বিশাল অংকের ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে তৎকালীন আওয়ামী লীগের নেতার জোগসাযোশে দীর্ঘ প্রায় এক বছর সময়ের ব্যবধানে ফলাফল কোনমতে সাময়িকভাবে সুপারিশ করাতে সক্ষম হন বলে সূত্র মতে জানা যায়। সাময়িকভাবে সুপারিশকৃত সেই স্মারক নম্বরের দুই নম্বর পয়েন্টে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, সাময়িকভাবে সুপারিশকৃত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে পরবর্তীকালে যেকোনো সময়ে কোন যোগ্যতার বা কাগজপত্রাদির ঘাটতি ধরা পড়লে,দুর্নীতি, সনদ জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেলে, অসত্য তথ্য প্রদান করলে বা যে কোন গুরুতর ভুল ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে উক্ত প্রার্থীদের সুপারিশ বাতিল বলে গণ্য হবে। তাছাড়া ক্ষেত্র বিশেষে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের ফৌজদারী আইনে সোপর্দ করা যাবে। চাকুরিতে নিয়োগের পর এরূপ কোন তথ্য প্রকাশ বা প্রমাণিত হলে চাকুরি হতে বরখাস্ত করা ছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে যে কোন উপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। এরপর বস্ত্র অধিদপ্তরে চূড়ান্তভাবে যোগদান করার সময় কাগজপত্র নিয়ে মোঃ রেজাউল করিম আবারও বিপত্তিতে পড়েন। সেখানেও রেজাউল করিম বিশাল অংকের টাকার বিনিময়ে ও আওয়ামী লীগ নেতার যোগসাজশে মিটমাট করতে সক্ষম হন, যে কারণে স্বাভাবিক সময়ের থেকেও ছয় মাস বেশি সময় নিয়ে তিনি তার কাগজপত্র জমা দেন। কাগজপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে সময় নেওয়ার বিষয়টি, মতামত জানার সময় মুঠোফোনে তার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি নিজেই স্বীকার করেন। যে কল রেকর্ড পত্রিকা অফিসে সংরক্ষিত আছে।
সব থেকে চমকপ্রদ বিষয়টি হলো জাতীয় পরিচয়পত্রে উল্লেখিত পিতার নাম, গ্রামের নাম, ডাকঘর, এমনকি উপজেলার নামের ও ব্যাপক পরিবর্তন দেখা যায় তার পিতার মুক্তিযোদ্ধা সনদে। এখন প্রশ্ন হলো কোনটির তথ্য সত্য, জাতীয় পরিচয় পত্রের নাকি পিতার মুক্তিযোদ্ধা সনদের? জাতীয় পরিচয় পত্রে রেজাউল করিমের পিতার নাম মোঃ ছানাউল ইসলাম, গ্রাম: পূর্ব-নারুলি ধাওয়াপাড়া, ডাকঘর: বগুড়া, উপজেলা: বগুড়া সদর হলেও বিজিবি গেজেটে বাতিল হওয়া তার পিতার মুক্তিযোদ্ধা সনদে পিতার নাম এ কে এম সানাউল ইসলাম, যেটির বিজিবি গেজেট নম্বর ৬৮৬২। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ গেজেটটিকে বাতিল বলে ঘোষণা করে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় পাঁচ ছয় মাস সময় নিয়ে কাগজপত্র দাখিলের পর যে মুক্তিযোদ্ধা সনদ জমা দেন রেজাউল করিম তার বেসামরিক গেজেট নাম্বার ২৬৮৪, যেখানে তার পিতার নাম এ কে এম সানাউল ইসলাম মন্ডল, গ্রাম: নিজবলাইল, ডাকঘর: হাটশেরপুর, উপজেলা: সারিয়াকান্দি দেখানো হয়েছে। পরিচয় পত্রের তথ্য আর মুক্তিযোদ্ধা সনদের তথ্য প্রকৃতপক্ষে একটি গোলকধাঁধার জন্ম দিয়েছে। তবে কি তথ্য গোপন বা বিকৃত করেই সরকারি চাকরিতে বহাল তবিয়্যতে মোঃ রেজাউল করিম? অন্তবর্তী কালীন সরকারের আমলে মুক্তিযুদ্ধ কোটায় নিয়োগ প্রাপ্ত জনবলের তথ্য নেওয়া ও যাচাই করা বিষয়ে, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ প্রাপ্ত জনবলের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রেরণ বিষয়ে নোটিশ প্রদান করা হলেও পিতার মুক্তিযোদ্ধা সনদের বিষয়ে উল্লেখ করেননি রেজাউল করিম বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়।চৌকস রেজাউল করিম প্রশাসন ও মন্ত্রণালয় কে সুকৌশলে ম্যানেজ করে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে লালমনিরহাট টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট,লালমনিরহাট এর অধ্যক্ষ পদ বাগিয়ে নিয়েছেন ইতিমধ্যে। সেখানেও নানা অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন মোঃ রেজাউল করিম।
এ বিষয়ে বিস্তারিত পরবর্তী পর্বে উল্লেখ করা হবে।
এ সকল বিষয়ে মতামত জানতে মোঃ রেজাউল করিমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অসত্য বলে দাবি করেন।
রেজাউল করিমের পিতার মুক্তিযোদ্ধা সনদে পিতার নাম, গ্রামের নাম,থানা এগুলো পরিবর্তনের বিষয়ে তথ্য জানাতে বস্ত্র ও পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ভারপ্রাপ্ত আরিফুর রহমান খানের মুখোমুখি হলে তিনি বলেন আপনারা আপনাদের তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করেন,কেউ দুর্নীতির আশ্রয় নিলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতিমধ্যে একই নামে অন্যজনকে পিতা দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সনদ চালিয়ে দেওয়ার গুঞ্জন উঠেছে রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রের সাথে প্রতারণার শামিল যা কঠিন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এরকম রেজাউল করিমদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এই ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে মানুষ প্রভাবিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সকলের অভিমত।
মন্তব্য করুন