রুমান খাঁন স্টাফ রিপোর্টার: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে কোমল পানীয়র সাথে ক্ষতিকর রাসায়নিক (এসিড) মিশিয়ে পান করিয়ে রহমত উল্লাহ (১৫) নামের এক কিশোরকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে আটক করেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের মেরকুটা গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সিদ্দিক মিয়ার ছেলে রহমত উল্লাহর সঙ্গে একই গ্রামের খায়ের মিয়ার ছেলে হাসান মিয়া (৩৫)-এর পূর্ব বিরোধ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, সেই বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে কোমল পানীয়র বোতলে রাসায়নিক মিশিয়ে রহমত উল্লাহকে পান করানো হয়।
বিষাক্ত পানীয় পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই রহমত উল্লাহ তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে এবং গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
কিছুটা সুস্থ মনে হওয়ায় তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হলেও গতকাল রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে নবীনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং আজ সকালে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের মামা হানিফ মিয়া বাদী হয়ে হাসান মিয়াসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
নবীনগর থানার এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান,
“ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে এসিড মিশ্রিত পানীয়র বিষয়টির সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে।
প্রধান আসামিসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মাত্র ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে মেরকুটা গ্রামসহ পুরো এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন