মো.মোকলেসুর রহমান মামুন, জেলা প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ : বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে সিরাজগঞ্জবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মির্জা মোস্তফা জামান।
রবিবার (১৩ এপ্রিল ২০২৬) এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ বাংলা সনের প্রথম দিন, যা বাঙালির অন্যতম প্রধান সর্বজনীন উৎসব। এ দিনটি আনন্দ, উৎসব ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়। নতুন বছরের সূচনায় পুরনো সকল গ্লানি, ব্যর্থতা ও দুঃখ-কষ্ট ভুলে গিয়ে নতুন উদ্যমে জীবনকে সাজানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করে বাঙালি জাতি।
তিনি বলেন, বাংলা নববর্ষ শুধু একটি তারিখ নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয়, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক চেতনার প্রতীক। এ উৎসব ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলে। গ্রামবাংলার কৃষিজীবী সমাজ থেকে শুরু করে আধুনিক নগরজীবন-সবখানেই নববর্ষের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।
মির্জা মোস্তফা জামান বলেন, মুঘল সম্রাট আকবরের সময় বাংলা সনের প্রবর্তন হয়। কৃষকদের কাছ থেকে সঠিক সময়ে খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে হিজরি চান্দ্র সন ও সৌর সনের সমন্বয়ে এই বঙ্গাব্দ চালু করা হয়, যা প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে এটি বাঙালির জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়।
তিনি আরও বলেন, অতীতে নববর্ষ ছিল কৃষিনির্ভর উৎসব। চৈত্র মাসের শেষ দিনে কৃষকরা জমিদারদের খাজনা পরিশোধ করতেন এবং পরদিন নববর্ষে জমিদাররা প্রজাদের মিষ্টিমুখ করাতেন। সেই ধারাবাহিকতায় ‘হালখাতা’ প্রথার প্রচলন হয়, যেখানে ব্যবসায়ীরা পুরনো হিসাব বন্ধ করে নতুন খাতা খোলেন এবং ক্রেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে আপ্যায়ন করেন। এই ঐতিহ্য এখনো দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, সময়ের সাথে সাথে বাংলা নববর্ষ একটি বৃহৎ সাংস্কৃতিক উৎসবে রূপ নিয়েছে। বৈশাখী মেলা, লোকজ গান, পিঠা-পুলি, নতুন পোশাক, আলপনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপিত হয়। গ্রামবাংলায় নববর্ষ মানে নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন ও নতুন সম্ভাবনা।
নগরজীবনে নববর্ষ উদযাপন আরও বর্ণিল ও জাঁকজমকপূর্ণ হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখের প্রভাতে উদীয়মান সূর্যকে স্বাগত জানিয়ে শুরু হয় বর্ষবরণ। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন আয়োজন করে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’ গানটির মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।
তিনি বলেন, নববর্ষ আমাদের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে। এটি আমাদের শিখায় অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে। সমাজে ন্যায়, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় এই উৎসব আমাদের অনুপ্রাণিত করে।
মির্জা মোস্তফা জামান আরও বলেন, বর্তমান সময়ে আমাদের উচিত ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা। সিরাজগঞ্জের উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সকলকে একসাথে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে সিরাজগঞ্জবাসীর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন এবং নতুন বছর সবার জীবনে বয়ে আনুক আনন্দ, সাফল্য ও কল্যাণ—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
মন্তব্য করুন