মুফতী জাহিদ নুমানী, বিশেষ প্রতিনিধি
৬ মে ২০২৬, ৭:১১ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

৫ মে শাপলা চত্বর: অমীমাংসিত রহস্য, বিতর্ক ও বিচারহীনতার এক দশক

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বর—বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গভীরভাবে আলোচিত ও বিতর্কিত ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু। শাপলা চত্বর অভিযান ২০১৩ আজও প্রশ্নবিদ্ধ—কি ঘটেছিল সেই রাতে? কতজন প্রাণ হারিয়েছিলেন? কেন এখনো স্পষ্ট কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন সামনে আসেনি?
২০১৩ সালের ওই দিনে হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা ১৩ দফা দাবিতে ঢাকায় সমবেত হয়। দিনভর কর্মসূচির পর তারা শাপলা চত্বরে অবস্থান নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
রাতের অন্ধকারে শুরু হয় অভিযান বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, চারদিক ঘিরে ফেলা এবং পরপর অভিযান চালানোর অভিযোগ বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে। তবে এসব বিষয়ে সরকারি বক্তব্য বরাবরই ভিন্ন ছিল।
ঘটনার সবচেয়ে বিতর্কিত দিক হলো হতাহতের সংখ্যা। সরকারি হিসেবে নিহতের সংখ্যা সীমিত বলা হলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন বৃহৎ প্রাণহানির দাবি করে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও ঘটনার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানায়। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো সর্বজনগ্রাহ্য ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই গেছে।

ঘটনার পর একাধিকবার তদন্তের দাবি উঠলেও তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়নি—এমন অভিযোগ রয়েছে। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া এমন একটি বড় ঘটনার সত্য চাপা পড়ে থাকলে তা ভবিষ্যতের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ নজির তৈরি করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই দাবি করেন, সেই রাত ছিল আতঙ্ক, বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তায় ভরা। অনেক পরিবার আজও তাদের স্বজনদের প্রকৃত অবস্থান বা ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেনি—এমন কথাও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে, যদিও এসব দাবির স্বাধীন যাচাই সীমিত।
একপক্ষ এটিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে, অন্যপক্ষ বলছে এটি ছিল “আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় অভিযান”। এই দ্বৈত বয়ানই ঘটনাটিকে আরও জটিল করেছে।
দশক পেরিয়ে গেলেও কিছু মৌলিক প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে প্রকৃতপক্ষে কতজন নিহত হয়েছিল, অভিযান পরিচালনার প্রক্রিয়া কতটা নিয়মতান্ত্রিক ছিল এবং কেন এখনো একটি নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন হয়নি।
৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনা শুধু একটি দিনের স্মৃতি নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানবাধিকার পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবি। সত্য উদঘাটন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে এই ঘটনা ইতিহাসে একটি অমীমাংসিত অধ্যায় হিসেবেই থেকে যাবে।

আমাদের বসুন্ধরা/ ঢাকা

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নবীনগরের কুড়িঘরে বাবুল মিয়ার ওপর হামলার অভিযোগ, এলাকায় ক্ষোভ ও নিন্দা।

প্রভাবশালী ঠিকাদারের দাপটে জয়ন্তীপুর ব্রীজে অনিয়মের অভিযোগ, নীরব প্রশাসন!

তরুণদের হাতে মাদক নয়, খেলাধুলার সরঞ্জাম তুলে দিতে হবে – ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

মানবিক নেতৃত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও পদোন্নতি নেই, হতাশ ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা দীর্ঘদিন ঝুলে আছে

মামিগিলি দ্বীপে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মালদ্বীভে বাংলাদেশ হাইকমিশনারের মতবিনিময় সভা

ঝালকাঠিতে চা দোকানিকে নৃশংস হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় দুগ্ধ সমিতির সাবেক ম্যানেজারকে কুপিয়ে হত্যা

ঝালকাঠিতে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভদের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

গাজীপুরে ৫ খুনের ঘটনায় লাশের ওপর ‘রহস্যময়’ অভিযোগপত্র-নতুন মোড়

১০

রাজাপুরে ডাকবাংলো দখল করে ওসির বসবাস, বিদেশি মেহমানদের আবাসন সংকটে জনমনে ক্ষোভ

১১

সেরা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর’ হিসেবে সম্মাননা পেলেন ঝিনাইদহের ছেলে জুয়েল রানা

১২

সরকার মিডিয়ার হেড অব প্রোগ্রাম হিসেবে দায়িত্ব নিলেন তরুণ নির্মাতা ইয়াসির আরাফাত

১৩

পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের ওপর হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি

১৪

নড়াইলে সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয় : দক্ষিণাঞ্চলের সাংস্কৃতিক নবজাগরণের স্বপ্ন

১৫

ঢাকা দক্ষিণে মেয়র পদে প্রার্থী হচ্ছেন নীলা ইসরাফিল

১৬

বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলোতে শিগগিরই আসছে নতুন নেতৃত্ব আলোচনায় একাধিক তরুন নেতা

১৭

৫ মে শাপলা চত্বর: অমীমাংসিত রহস্য, বিতর্ক ও বিচারহীনতার এক দশক

১৮

বিড়ি শিল্পে শুল্ক বৃদ্ধি না করার দাবিতে রংপুর ডিসি অফিসে মানববন্ধন

১৯

লালমনিরহাট ডিপ্লোমা টেক্সটাইলে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ধামাচাপা নেপথ্যে অধ্যক্ষ রেজাউল 

২০
০৬ মে ২০২৬

৫ মে শাপলা চত্বর: অমীমাংসিত রহস্য, বিতর্ক ও বিচারহীনতার এক দশক

www.amaderbashundhara.com|
Amaderbasundara