পীরগঞ্জ উপজেলার জয়ন্তীপুর ঘাটে করতোয়া নদীর উপর নির্মাণাধীন প্রায় ২২ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ের ব্রীজ ও সংযুক্ত সড়ক নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রভাবশালী ঠিকাদারের কারণে অনিয়ম দেখেও নীরব ভূমিকা পালন করছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও প্রকৌশল বিভাগ। জানা গেছে, ২৯৪ মিটার দৈর্ঘ্যের মূল ব্রীজের অবকাঠামোর কাজ শেষ হলেও বর্তমানে গাইডওয়াল, ব্লক ও প্রায় ১৫০০ মিটার সংযোগ সড়কের কাজ চলমান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ব্লক তৈরী ও আরসিসি রোড নির্মাণে নিম্নমানের পাথর, ভিট বালু ও নিম্নমানের সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে।এছাড়াও নির্ধারিত মাপের পরিবর্তে কম মাপের রড ব্যবহার করে কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়ায় কয়েক বছরের মধ্যেই ব্রীজ ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এলাকাবাসী আরও জানান, এর আগেও একই ঠিকাদারের নির্মিত উপজেলার বিভিন্ন সড়ক অল্প সময়ের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যায়। এরপরও রহস্যজনক কারণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কেউ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, কাজের স্থানে তদারকিতে কোনো কর্মকর্তা বা দায়িত্বরত প্রকৌশলী উপস্থিত ছিলেন না।সেখানে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করতে দেখা গেছে বলেও অভিযোগ উঠে।সূত্র জানায়, কার্যাদেশ প্রাপ্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান AK-SB-MA (JV) কাজটি অন্য এক ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করে দেয়।পরে সেই ঠিকাদারের তত্ত্বাবধানে কাজ চলছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রভাব খাটিয়ে যেনতেনভাবে কাজ করায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এলাকাবাসী অবিলম্বে নির্মাণকাজ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।