ধর্ষণ চেষ্টা ধামাচাপা দেওয়ার ঘটনায় লালমনিরহাট টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের অফিস সহকারী হুমায়ুনকে সমর্থন দিতে এখনও সক্রিয় ভূমিকা পালনের অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষ রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে।ঘটনাটি ২৪-৬-২০২৪ তারিখের হলেও এ বিষয়ে পত্রিকাতে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর আবারও নড়েচড়ে ওঠেন প্রিন্সিপাল রেজাউল করিম। যার ফলশ্রুতিতে বিগত ৮ ই মে ২০২৬ তারিখ শুক্রবার কুলাঘাট এলাকায় ভুক্তভোগী মেঘলার বাবার বাড়িতে সিকিউরিটি গার্ড মাহবুব, আউটসোর্সিং এর বাবুর্চি মুস্তাকিম এবং জুনিয়ার ইন্সট্রাক্টর আওলাদকে পাঠান অধ্যক্ষ রেজাউল। সেখানে তারা কিছু সময় অপেক্ষা করে নানা রকম কথা বলার এক পর্যায়ে বাবুর্চি মুস্তাকিম এই ঘটনা ভাইরাল করার হুমকি প্রদান করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মেঘলা আক্তার ও তার স্বামী রোকন। তারা আরো জানান মেঘলা আক্তার এবং তার স্বামীর অনুপস্থিতে পরিবারের অন্য সদস্যদের সামনে এসব কথা বলেন তারা। এ বিষয়ে জানতে সিকিউরিটি গার্ড মাহবুব এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান প্রিন্সিপাল স্যারের নির্দেশেই ওইখানে গিয়েছিলেন। মুস্তাকিম এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনিও একই কথা জানান, তবে হুমকি প্রদান করার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন। এ বিষয়ে জানতে জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর আওলাদের সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ভুক্তভোগী সহ সকলের কল রেকর্ড পত্রিকা অফিসে সংরক্ষিত আছে।
সারা দেশের মানুষ যখন ধর্ষণের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিচ্ছে, তখন প্রিন্সিপাল রেজাউল এর মত কিছু মানুষ ধর্ষণ চেষ্টা কারীদের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করার উদ্দেশ্য কি এ বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় অফিস সহকারী হুমায়ুন এবং অধ্যক্ষ রেজাউল লালমনিরহাট টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। হুমায়ূন মূলত অফিস সহকারী হলেও অধ্যক্ষ রেজাউল তাকে দিয়ে একাউন্টস দেখাশোনা করা, মালপত্র ক্রয়,স্টোর কিপার থেকে শুরু করে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করান বলে জানা যায়। কোনরকম চাহিদা পত্র না দিয়ে লোকবল সংকটের অজুহাত দেখিয়ে নিজের অপকর্ম ঢাকতে হুমায়ুনকে ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষ রেজাউলের বিরুদ্ধে। বগুড়া টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটে থাকাকালীন সময়েও হুমায়ূন একজন ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন, সেক্ষেত্রেও রেজাউলের সহানুভূতির অভাব ছিল না বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, ঘটনাক্রমে সেখানেও প্রতিষ্ঠান প্রধানের দায়িত্বে ছিলেন রেজাউল করিম। যদিও ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত হেড অফিস পর্যন্ত গড়ায়। প্রশ্ন উঠেছে নারী লিপসু হুমায়ুনের সাথে অধ্যক্ষ রেজাউলের কিসের সক্ষতা? যেখানে হুমায়ুনের মত হীন চরিত্রের মানুষদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ছিল প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে রেজাউলের কাছে, সেখানে তিনি পারিবারিকভাবে সমঝোতার ব্যবস্থা করেন, থানা থেকে জিডি তুলে নিতেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।এমনকি ভুক্তভোগীর স্বামী প্রতিষ্ঠানটির সাবেক বাবুর্চি রোকনুজ্জামানকে নানা রকম অসহনীয় আচরণ, মানসিক যন্ত্রণার মাধ্যমে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ মর্মে ২১/০৫/২০২৬ তারিখে বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগীর স্বামী লালমনিরহাট টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের সাবেক বাবুর্চি রোকনুজ্জামান। উক্ত আবেদনে তার স্ত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা ঘটনা ধামাচাপা দিতে তাকে চাকুরিচ্যুত করা প্রসঙ্গে বলেন ” আমি রোকনুজ্জামান বিগত ৫/২/২০২৩ সাল থেকে ৩০/৬/২০২৪ তারিখ পর্যন্ত লালমনিরহাট ডিপ্লোমা টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটে বাবুর্চি পদে আউটসোর্সিং এ কর্মরত ছিলাম। উক্ত কর্মকালীন সময়ে ২৪-৬-২০২৪ তারিখে রাত আনুমানিক আটটার দিকে আমার অবর্তমানে আমার বাসায় ঢুকে আমার স্ত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করার চেষ্টা করে অফিস সহকারী হুমায়ুন। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে আমার স্ত্রীর আত্মচিৎকারে হুমায়ূন সেখান থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। ওই রাতেই আমি পার্শ্ববর্তী থানায় একটি জিডি ও করেছিলাম। পরবর্তীতে আমাকে নানান হুমকি ধামকি দিয়ে জিডিটি তুলে নিতে বাধ্য করেন কলেজের অধ্যক্ষ রেজাউল করিম ও অফিস সহকারী হুমায়ুন। আমার সাথে অনেক অসহনীয় আচরণ মানসিক নির্যাতন ও হুমকি-ধমকি দেওয়া শুরু করেন অধ্যক্ষ রেজাউল করিম যার প্রেক্ষিতে আমি মাত্র ৬ দিনের মাথায় চাকরি ছাড়তে বাধ্য হই। তাদের ক্ষমতার কাছে নিজেকে অসহায় মনে হয় আমি দীর্ঘ দিনেও ন্যায় বিচার পাইনি। সেই সময় থেকে আমি এবং আমার পরিবার এখনো মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্ততার মধ্যে থাকা সহ বেকার জীবনযাপন করছি।” একজন এতিম মানুষ হিসেবে উক্ত ঘটনার সঠিক ন্যায্য বিচার দাবি সহ তার চাকরি ফিরে পেতে মহাপরিচালকের কাছে দাবি জানিয়েছেন রোকন।
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে অধ্যক্ষ রেজাউল করিমের সাথে তৎকালীন স্থানীয় এমপি নুরুজ্জামান এর অত্যন্ত সুসম্পর্ক ছিল বলে জানা যায়। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় সাবেক এমপি নুরুজ্জামানের ছেলে সাবেক স্থানীয় চেয়ারম্যান রাকিবুজ্জামান রাকিবের সাথেও ছিল তার গভীর সখ্যতা। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে এমপি ও এমপি পুত্রের সাথে সম্পর্কের প্রভাব খাটাতেন প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে, বলেও অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষ রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে। ছাত্রদের সামনে বিভিন্ন সময়ে নিজেকে ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য বলেও পরিচয় দিতেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। সাম্প্রতিক সময়ে বুটেক্স ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে নিজেকে নতুন রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত করার চেষ্টায় ব্যস্ত দেখা যায় রেজাউল করিমকে। এ সকল বিষয়ে মতামত জানতে অধ্যক্ষ রেজাউল করিমের মুঠোফোনে ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোন উত্তর দেননি।
বগুড়া টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটে ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা, লালমনিরহাট টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটে বাবুর্চির স্ত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্ত অফিস সহকারী হুমায়ুনের মত ব্যক্তিদের কাছে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নারী শিক্ষার্থীরা আসলে কতটুকু নিরাপদ সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। একই সাথে হুমায়ুনের মত চরিত্রের মানুষের বিরুদ্ধে সঠিক আইনানুগ ব্যবস্থা না নিয়ে তার কর্মকান্ড কে আড়াল করার চেষ্টায় লিপ্ত অধ্যক্ষ রেজাউলের স্বার্থ কোথায় সে প্রশ্নের উত্তর মেলানো এখন সময়ের দাবি। হুমায়ুন রেজাউলদের মতো মানুষদেরকে সঠিক জবাবদিহিতার আওতায় না আনতে পারলে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য অনিরাপদ হয়ে পড়তে পারে দেশের প্রতিটি ক্যাম্পাস মতামত সংশ্লিষ্ট সকলের।
মন্তব্য করুন