অভিযোগ আর অনিয়ম এখন যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে চুয়াডাঙ্গা সরকারি শিশু পরিবার ঘিরে । একসময় বিতর্কিত হয়ে বদলি হওয়া কম্পাউন্ডার রুহুল আমীন পুনরায় একই প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর আবাসিক ছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ যেন সর্ষের মধ্যেই ভূত হয়ে দাঁড়িয়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক (ডিডি) মো. জাকির হোসেন। অভিযোগ উঠেছে সময় অসময় নেই চুয়াডাঙ্গা সরকারি শিশু পরিবারের মেয়েদের ডরমিটরিতে গিয়ে ভিডিও ধারণ করার অভিযোগ উঠেছে ডি ডি জাকিরের বিরুদ্ধে।
বিতর্কিত কম্পাউন্ডারকে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অফিস থেকে আবারও শিশু পরিবারে যোগদান করানো এবং সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালকের এমন হুটহাট পরিদর্শনে উদ্বীগ্ন। বর্তমানে এই উপপরিচালকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে ও অনিয়মের তথ্য রয়েছে তবে তিনি নাকি অনেক ক্ষমতাধর তাই তার কোন কিছু করার ক্ষমতা কেউ রাখে না এমনটাই বলেন তিনি কথায় কথায় কারণ তিনি ছিলেন সাবেক এক মন্ত্রীর খুবই ঘনিষ্ঠজন সেই দাপটে এখনো চলছে দাপট । তিনি মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলায় সহকারী পরিচালক (এডি) হিসেবে দীর্ঘদিন কর্মরত ছিলেন। তখন তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে এডি থেকে ডিডি হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে মাগুরায় পোস্টিং হয়। বর্তমানে চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত সেন আছেন ডেপুটি ডিরেক্টর হিসেবে জাকির হোসেন। সমাজসেবার অনুদান নিয়ে চলছে নানান কানাঘুষা নিয়মের বাইরেই নিজের ইচ্ছামতো পরিচালনা করছেন সমাজসেবা অধিদপ্তর শিশু পরিবার। সূত্রে জানা গেছে ২০২১ সালে কম্পাউন্ডার রুহুল আমীনের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অমান্য, প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলাভঙ্গ, সরকারি শিশু পরিবারের নিবাসীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও অনৈতিক আচরণ, নিবাসীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত করার মতো কর্মকাণ্ড এবং দায়িত্বে অবহেলার কারণে এক নিবাসী কিশোরীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠলে চুয়াডাঙ্গা থেকে হবিগঞ্জ সরকারি শিশু পরিবারে (বালক) বদলি করা হয় হবিগঞ্জে দেড় বছর মেহেরপুরে শিশু পরিবারে দায়িত্ব পালন করেন। রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে পূর্বঘোষণা ছাড়াই আমাদের এখানে আসেন এমনটাই জানান শিশু পরিবারের একাধিক সদস্যরা । অনেক সময় ডরমিটরিতে ঢুকে ভিডিও করেন। খুব অস্বস্তি লাগে ভয়ে কাউকে কিছু বলতে পারিনি।’ ২০২৪ সালে আবারো চুয়াডাঙ্গা শিশু পরিবারে পোস্টিং হলে তৎকালীন চুয়াডাঙ্গা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক (ডিডি) সিদ্দিকা সোহেলী রশীদ প্রবেশন অফিসে সংযুক্ত করেন। এরপর রুহুল আমীন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের সমাজসেবা অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন। এরমধ্যে সিদ্দিকা সোহেলী রশীদের বদলি হলে রুহুল আমীন আবার প্রবেশন অফিসে ফিরে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এরমধ্যে বর্তমান উপপরিচালক জাকির হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের পর কম্পাউন্ডার রহুল আমীনকে আবার চুয়াডাঙ্গা সরকারি শিশু পরিবারে যোগদান করান। বর্তমানে জিটি জাকির হোসেন রুহুল আমিন ও অতিরিক্ত দায়িত্ব মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেন মিলে যেন ব্যক্তিগত সম্পদ মনে করছেন। চুয়াডাঙ্গায় শিশু পরিবারের নিবাসীদের মধ্যে অসন্তোষ ও উদ্বেগ দেখা দেয়। অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে ২০২০ সালে কম্পাউন্ডার রুহুল আমীনের দায়িত্বে অবহেলার কারণে নিবাসী সাথী নামে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়। এছাড়া নিবাসী মেয়েদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা, ব্যক্তিগত কাজে তাদের ব্যবহার এবং দুর্ব্যবহারের মতো অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে বলে শিশু পরিবারে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নিবাসী ছাত্রী অভিযোগ। এছাড়া অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকারী মোঃ সানোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে রয়েছে নানান তথ্য।, নানান অনিয়ম অনৈতিক কাজে ধরা পড়লেও টাকা পয়সা দিয়ে ম্যানেজ করে তিনি বিষয়টি ধামাচাপা দেন। শিশু নির্বাশীরা জানান অবহেলা অনিয়ম এর কারণে আমাদের এক আপু কয়েক বছর আগে মারা গিয়েছিল। ওই রুহুল স্যার আমাদের অনেক আপুর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। আমরা ভয়ে কিছু বলতে পারছি না।’
সমাজসেবার সহায়তা / টাকা পাওয়ার আগেই মারা যান রোগী
এদিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক জাকির হোসেন বিকেলে, সন্ধ্যায়, এমনকি রাতেও শিশু পরিবারে আসেন বলে নিবাসী ছাত্রীরা অভিযোগ করেছেন। নিবাসী ছাত্রীরা নানা অভিযোগ করেছেন। তবে উপপরিচালকের বিষয়ে রুহুল আমীন বার বার বলতে থাকেন, ‘ডিডি স্যার খুব সৎ ও ভালো মানুষ। তিনি আসার পর চুয়াডাঙ্গা শিশু পরিবারের চিত্র পরিবর্তন হয়ে গেছে।’স্যার প্রায়ই সন্ধ্যায় ও রাতে ডরমিটরিতে এসেছেন। আমাদের ভিডিও করে নিয়ে গেছেন। এটা আমাদের ভালো লাগেনি। ’ওই ভিডিও বক্তব্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্কুলপড়–য়া নিবাসী ছাত্রী বলেন, ‘স্যার প্রায়ই রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে পূর্বঘোষণা ছাড়াই আমাদের এখানে আসেন। অনেক সময় ডরমিটরিতে ঢুকে ভিডিও করেন। বিষয়টি আমাদের ভালো লাগছে না। আমরা নিরাপদ বোধ করছি না।’
এসব বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা শিশু পরিবারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক রোম্মানা বিলকিসের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি অসুস্থতাজনিত কারণে ছুটিতে দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। উপপরিচালকের বিরুদ্ধে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর দেওয়া একটি লিখিত অভিযোগের দেওয়া হয়েছে।
ওই অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, ‘চুয়াডাঙ্গা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের বর্তমান উপপরিচালক মো. জাকির হোসেন আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে কাজ করেছেন। বিশেষ করে তিনি মেহেরপুর জেলায় সহকারী পরিচালক পদে থাকাকালে তৎকালীন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। যদিও সাবেক মন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বর্তমানে কারাগারে আছেন।’
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ‘তিনি কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন, ব্যক্তিগত কাজে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেছেন, নিয়মিত অফিসে দেরিতে আসেন এবং বর্তমান সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।’
লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা পাশাপাশি অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারী, এমনকি নারী সহকর্মীদের সঙ্গেও তিনি রূঢ় আচরণ করেন বলে বলা হয়েছে।এদিকে কয়েকজন আবাসিক ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, নতুন উপপরিচালক যোগদানের পর তার সঙ্গে কম্পাউন্ডার রুহুল আমীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপরই প্রবেশন শাখা থেকে তাকে আবার শিশু পরিবারে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২১ সালে অভিযোগের পর বদলি করা হয়েছিল। সকল অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. জাকির হোসেন বিষয়টি এড়িয়ে যান।
তিনি আরো জানান রাতের বেলায় শিশু পরিবারের ডরমিটরিতে গিয়ে মেয়েদের ভিডিও ধারণ করার অভিযোগ সঠিক নয়।’ ৩০ জন নিবাস থাকলেও মাসিক বিলের ক্ষেত্রে আরও বেশি নিবাসী দেখানো হয় বলে তিনি শিশু পরিবারের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। ডিডির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করেই আমাকে এখানে দায়িত্ব দিয়েছে। অতিরিক্ত দায়িত্ব স্যার সানোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে রয়েছে অর্থ আত্মসাৎ সহ নানান অভিযোগ। তথ্যসূত্রে জানা গেছে সানোয়ার হোসেন দামুড়হুদা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রায় ২৫ লাখ ১৭ হাজার ৪৮৯ সরকারি টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ রয়েছে যা একটি তদন্ত রিপোর্টে দেখা গেছে। একাধিক কর্মকর্তাদের দাবি পুনরায় তদন্ত করা হলে এই অর্থের পরিমাণ আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই বিষয়টি পুনরায় আবার তদন্ত করার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে একাধিক কর্মকর্তাদের দাবি। অভিযোগ বিষয়ে জানতে অতিরিক্ত দায়িত্ব ছানোয়ার হোসেনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে সাংবাদিক পরিচয় শুনেই তিনি বলেন আমি একটু ব্যস্ত আছি বলেই ফোনটি কেটে দেন। পরবর্তীতে ৪ ঘন্টা পরে ফোন দিলে অতিরিক্ত দায়িত্ব ছানোয়ার হোসেন ব্যস্ত আছে বলেই ফোনটি আবারও কেটে দেন। যেখানে সমাজ সেবা অধিদপ্তর ও সাধারণ নাগরিকদের জন্য কাজ করবে বাস্তবতা সেখানে ভিন্ন,। সাধারণ নাগরিকদের প্রত্যাশা সমাজসেবা অধিদপ্তর যেন সকল বিষয়গুলো নজরে নিয়ে তদন্তে সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ জনগণ ও ভুক্তভোগীদের।
মন্তব্য করুন