লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নাজিরপুর উপজেলা পরিষদের সিএ আরাফাত বাবুরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাউন্ডারি ওয়ালের কাজ সম্পন্ন না করেই চূড়ান্ত বিলের কাগজে স্বাক্ষর চান। এ সময় প্রধান শিক্ষক তাকে জানান, কাজ সম্পূর্ণ হলে তিনি চূড়ান্ত বিলে স্বাক্ষর দেবেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি উল্টো ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে পুরো টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
অভিযোগকারী জানান, স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবকের আবেদন থেকে তিনি জানতে পারেন, তাকে জড়িয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে যে তিনি ঠিকাদারের সঙ্গে আঁতাত করে কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই বিল দিয়েছেন। মূলত ওই ঠিকাদার উপজেলা চেয়ারম্যানের সিএ। তিনি কয়েকবার বাড়িতে গিয়ে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করেন। রাজি না হওয়ায় তাকে হুমকিও দেওয়া হয়। পরে বাধ্য হয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চেয়ে মোট ৯টি দপ্তরে অভিযোগ করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘ইশতিয়াক কনস্ট্রাকশন’ নামের একটি লাইসেন্স ব্যবহার করে ওই সিএ বিভিন্ন কাজ বাগিয়ে নেন। লাইসেন্সটির মালিক তার বোন জামাই মোঃ রেজাউল শেখ হলেও পরিচালনা করেন আরাফাত নিজেই। বিলের চেকেও স্বাক্ষর করেন তিনি। তার দুলাভাই মূলত একজন মুরগি খামারি।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ইয়াসির আরাফাত ২০১০ সালে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে উদ্যোক্তা হিসেবে যোগ দেন। ২০১৪ সালে তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানের সময় তিনি সিএ পদে যোগ দেন। এরপর থেকেই বোন জামাইয়ের লাইসেন্স ব্যবহার করে ঠিকাদারি কাজ শুরু করেন। একাধিক ইউএনও ও চেয়ারম্যানকে প্রভাবিত করে অধিকাংশ কাজ নিজ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগকারী মফিজুল ইসলাম দাবি করেন, আরাফাত তার ৫৮ শতাংশ জমি জোরপূর্বক দখল করেছেন। এছাড়া ১৬তম গ্রেডের চাকরি করেও তিনি প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ১০ বছরে জাইকা প্রকল্প, এডিপি ও রাজস্ব খাত থেকে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও ওঠে।
সম্প্রতি উপজেলা পরিষদের ৪০ লাখ টাকার একটি কাজের ফাইল গায়েব করে কাজ না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়, যা জেলায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু সাইদ জানান, সরকারি চাকরিতে থেকে অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো পেশায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলা পরিষদের অডিট টিম এসে প্রায় ৭ কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ পায়। এরপরও ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়।
অভিযুক্ত সিএ ইয়াসির আরাফাত নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও বিস্তারিত বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা প্রকৌশলী মোঃ জহিরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাজিয়া শাহানাজ তমার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।