প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে অনিয়ম ও টেন্ডার বাণিজ্যের হরিলুট। ক্ষমতার অপব্যবহার টেন্ডার কারসাজি ভুয়া কাগজপত্র সাবমিট করে টেন্ডার বাগিয়ে নেওয়া এ যেন এখন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নিত্যদিনের সঙ্গী। পটপরিবর্তন হলেও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভেতরের মাফিয়া চক্রের চেনা চিত্র এক চুলও বদলায়নি একে অপরের বন্ধু হয়েই বাগিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকার টেন্ডার বিনিময় কেউ নিচ্ছেন অর্থনৈতিক অবৈধ সুবিধা ।অভিযোগ রয়েছে, এই পুরো দুর্নীতির মূল সিন্ডিকেট এর প্রধান ডা আব্দুর রহিম ও প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের কিছু ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। আরো অভিযোগ রয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের তৎকালীন ক্ষমতাধর এপিএস হিল্টন কুমার সাহা তিনিই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দ ।
অনুসন্ধান বলছে, বর্তমানে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা সম্পূর্ণ ব্যাহত করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন সরকারি খামারের টেন্ডার কার্যক্রমে এখনো একক রাজত্ব রয়েছে আর যার নিয়ন্ত্রণ করছেন হিলটন বাহিনী । যে কোন সরকারি টেন্ডারের কাজ হিলটনকে পাইয়ে দিতে অধিদপ্তরের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ও সহযোগিতা রয়েছে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিরা ।
হিল্টন কুমার সাহা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন জেলা পর্যায়ের খামার প্রকল্পের পশু খাদ্য সরবরাহের একক নিয়ন্ত্রণ করছেন। সেই ক্ষেত্রে এইচ এন এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স অঙ্কিতা এন্টারপ্রাইজ, এফএম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, এবং মেসার্স লুৎফা এন্ড সন্স নামের এই চারটি প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত সুদক্ষ ও চতুরতার সাথে অংশগ্রহণ করছে। হিল্টন কুমার সাহ ও প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর একটি সিন্ডিকেট জয়পুরহাট পাবনা বগুড়া বরিশাল ফরিদপুর ঝালকাঠি কুড়িগ্রাম বাগেরহাট নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল সহ বিভিন্ন জেলার সরকারি খামার বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ একই ধরনের পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রণ করছেন যার মুলহুতা প্রকল্প পরিচালক ডাক্তার আব্দুর রহিম এমনটি অভিযোগ একাধিক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানে । বিভিন্ন সরকারি গরু ও মহিষের খামারে৭০ লাক্ষ কখনো ৫২ লাখ যে ভিটামিন কাগজে পত্রে তা বাস্তবতা কোন মিল নেই। ওই ভাবে ভূয়া কাগজ পত্র সাজিয়ে মনগড়া করা
হচ্ছে টেন্ডার সিডিউল।, প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর ও মন্ত্রালয় কেন নিরব কার স্বার্থে করা হচ্ছে ওই নিয়ম বহির্ভূত মনগড়া সিডিউল,এমন প্রশ্ন একাধিক ঠিকাদার ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে সংস্থাটির পিডি আব্দুর রহিম এর অফিসে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। মন্ত্রীর সাথে মিটিয়ে আছে বলে জানা যায়। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ডা আব্দুর রহিম জানান মহা পরিচালকের স্যার এর সাথে কথা বলেন আমি এই বিষয়ে কথা বলবো না।
অনুসন্ধান বলছে, বিশেষ কোনো ব্যক্তির প্রতিষ্ঠান বা নির্দিষ্ট কোনো সরবরাহকারীর পণ্যের সাথে হুবহু সামঞ্জস্য রেখেই প্রস্তূত করা হয় ওইসকল টেন্ডার ও শর্ত। যাতে সেই কাজ হিল্টন কুমার সাহার আন্ডারে যে চার প্রতিষ্ঠান সেই ঠিকাদার টেন্ডার পায়।
সূত্র বলছে হিল্টন কুমার সাহা অত্যন্ত চতুরতার সাথে বিভিন্ন মনগড়া শর্ত সংযুক্ত করে টেন্ডারে অংশগ্রহণ ও কার্যক্রম সম্পূর্ণ সক্রিয় রেখেছেন। নিজের আসল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসহ এই দুটি ছায়া প্রতিষ্ঠানও পর্দার আড়াল থেকে এক চেটিয়া নিয়ন্ত্রণ করছেন হিল্টন। ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের অভিযোগ দেখে মনে হচ্ছে যেন সর্ষের মধ্যেই ভূত ঘাপটি মেরে বসে আছে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের ভিতরে ।পশু খাদ্য সরবরাহে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন ও একাধিক নিউজ হলেও দোষীদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর থেকে নেয়া হয়নি এমনটি জানান একাধিক কর্মকর্তারা, এই বৈষম্যমূলক ও অযৌক্তিক শর্তের কারণে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।, শেষ পর্যন্ত সরকার অনেক বেশি বা অতিরিক্ত মূল্যে নিম্নমানের খাদ্য উপকরণ ক্রয়ে বাধ্য হবে, যা সরকারি অর্থের সাশ্রয়ী ও কার্যকর ব্যবহারের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। কিন্তু অভিযোগকারীদের প্রশ্ন কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা ২০১৮ এর পরিপন্থী কর্মকান্ডের অভিযোগ থাকলেও এ পর্যন্ত ডাক্তার আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে কোন বিভাগীয় তদন্ত নোটিশ বা শোকজ কিংবা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এই সকল বিষয় নিয়ে অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন প্রভাবশালী মহলের ছত্র ছায়ায় থাকা অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদৌ কোন তদন্ত হবে কিনা। সবকিছু আগের মতোই চলবে এই নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন? এছাড়াও ডা আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর অভিযোগ কয়েকজন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের তাদের দাবি কাজ পাইয়ে দেওয়া বলে অর্থনৈতিক সুবিধা নিলেও পরবর্তীতে সেই ঠিকাদাদের কাজ দেয়া হয় নাই,বেশি সুবিধার যে দিয়েছে তাকেই দেওয়া হয়েছে টেন্ডার এভাবে কি চলবে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে টেন্ডার বাণিজ্য। আব্দুর রহিমের প্রভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন কাজ এখনো চলমান রয়েছে। এমন একই ঘটনায় কাউকে বরখাস্ত করা হলেও অন্যদিকে আব্দুর রহিমের বেলায় নিস্তব্ধ কেন অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। একাধিক অভিযোগ দুর্নীতি ও অনিয়ম থাকা সত্ত্বেও ডা আব্দুর রহিম প্রকল্প পরিচালক হিসেবে এখনো কিভাবে শপদে বহাল থাকে এই নিয়ে ঠিকাদার মহল ও প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের একাধিক ব্যক্তিদের চলছে কানাঘুষা। প্রশাসনিক রীতিনীতি উপেক্ষা করে প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদ পুষ্ট কিছু কর্মকর্তা এমন অবস্থানে পৌঁছে গেছেন যে এখন অধিদপ্তরে তারাই রাজা, এমন মন্তব্য শোনা যাচ্ছে কর্মকর্তা কর্মচারীদের মুখে মুখে। একাধিক ঠিকাদারের অভিযোগ কিছু ক্ষেত্রে মালামাল সরবরাহ ছাড়াও বিল পরিষদের মত ঘটনা ঘটেছে এমনকি ভিটামিনের ক্ষেত্রে যেখানে সর্বোচ্চ ৬ থেকে ৮ লাখ পাওয়া যায় সেখানে ৭০ লাখ অথবা ৫২ লাখ দেখিও টেন্ডার পাশের তথ্য রয়েছে।প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পূর্ণ প্রতিষ্ঠার স্বার্থে অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারী ও একাধিক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীরা। প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও পদমর্যাদার প্রচলিত কাঠামোর সঙ্গে এমন আয়োজন কতটা সামজ্ঞ্যসপূর্ণ সেই প্রশ্ন এখন অধিদপ্তরের ভেতরেই ঘুরপাক খাচ্ছে। একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তারা খোব প্রকাশ করে বলে এভাবে চলতে থাকলে চেইন অব কমান্ড বলে কিছুই থাকবে না প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর হয়ে উঠবে ক্ষমতার পাহাড় ।
মন্তব্য করুন