বৈধ ভিসা ও বিমান টিকিট থাকার পরও ছাড়পত্র না পেয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রেমিট্যান্স যোদ্ধারা-
কর্মসংস্থান অনুবিভাগের বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ:
জীবনের সব সঞ্চয় বিক্রি করে, জমি বন্ধক রেখে, ধার-দেনা করে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছিলেন তারা। হাতে বৈধ ভিসা, বুকিং করা বিমান টিকিট, বিদেশে নিয়োগদাতার চুক্তিপত্র—সবকিছু প্রস্তুত। অথচ শেষ মুহূর্তে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতের প্রশাসনিক জটিলতার কারণে আটকে গেছে তাদের বিদেশযাত্রা।
অভিযোগ উঠেছে, বিএমইটি কার্ড (স্মার্ট কার্ড) ইস্যু কার্যক্রমে আকস্মিক স্থবিরতা ও প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার কারণে ইরাকগামী অন্তত ৬০ জন কর্মীসহ হাজারো বিদেশগামী শ্রমিক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, আগামী ১২ জুন ভোর সাড়ে ৫টায় ইরাকগামী একটি ফ্লাইটে তাদের যাত্রা করার কথা ছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় বিএমইটি কার্ড না পাওয়ায় তাদের বিদেশযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
শুধু ইরাকগামী কর্মীরাই নন, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত আরও বহু শ্রমিক একই সংকটে রয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কর্মসংস্থান অনুবিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তহীনতা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণেই এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বিশেষভাবে যুগ্মসচিব মোঃ শহিদুল ইসলাম চৌধুরীর দপ্তরের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সবকিছু বিক্রি করে বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম:
ইরাকগামী এক কর্মী বলেন, “আমি বিদেশ যাওয়ার জন্য পাঁচ লাখ টাকার বেশি খরচ করেছি। জমি বন্ধক রেখেছি, আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছি। এখন যদি যেতে না পারি, তাহলে পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে।”
আরেকজন বলেন, “ভিসার মেয়াদ আছে, টিকিট কাটা আছে, বিদেশের কোম্পানি অপেক্ষা করছে। কিন্তু বিএমইটি কার্ড না পাওয়ায় আমরা বিমানবন্দরে যেতে পারছি না। আমাদের ক্ষতির দায় কে নেবে?”
রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা:
অর্থনীতিবিদদের মতে, বিদেশগামী কর্মীদের যাত্রা ব্যাহত হলে শুধু ব্যক্তি বা পরিবারের ক্ষতি হয় না; ক্ষতিগ্রস্ত হয় জাতীয় অর্থনীতিও। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস হচ্ছে প্রবাসী কর্মীদের পাঠানো রেমিট্যান্স।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশগামী শ্রমিকদের প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে রাখা হলে বিদেশি নিয়োগদাতাদের কাছেও নেতিবাচক বার্তা যায়, যা ভবিষ্যৎ শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থানকে দুর্বল করতে পারে।
ক্ষোভ ও উদ্বেগ:
ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, বৈধ কাগজপত্র সম্পন্ন করার পরও যদি একজন শ্রমিক শেষ মুহূর্তে প্রশাসনিক জটিলতায় আটকে যান, তাহলে তার ক্ষতির দায় কে নেবে? সরকার, সংশ্লিষ্ট দপ্তর, নাকি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা?
তাদের অভিযোগ, পূর্ব ঘোষণা বা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া যদি বিএমইটি কার্ড প্রদান কার্যক্রম বন্ধ বা বিলম্বিত হয়, তাহলে হাজারো পরিবারের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। এতে বিদেশগামী কর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।
দ্রুত সমাধানের দাবি:
ভুক্তভোগী কর্মী, তাদের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো অবিলম্বে পরিস্থিতির সমাধান, জরুরি ভিত্তিতে বিএমইটি কার্ড ইস্যু এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তাদের ভাষায়, “যারা দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে বিদেশে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করেন, সেই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের যেন প্রশাসনিক জটিলতার বলি হতে না হয়।”
ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের সংখ্যা:
ইরাক গামী ৬০ জন সহ আরো অনেকে।
বিএমইটি কার্ড ইস্যু বন্ধ বা বিলম্বের প্রকৃত কারণ জানা যায়নি।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিএমইটির কোনো বক্তব্য এখনো পযন্ত পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন