আমাদের বসুন্ধরা প্রতিবেদক : মূসক হার কমানো এবং উৎপাদনশীল খাতের কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর ৫ শতাংশ থেকে ১ শতাংশে নামানোর প্রস্তাব দিয়েছে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি)।
এ ছাড়া আগামী বছর থেকে ভ্যাট রিটার্ন সম্পূর্ণ অনলাইনে করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব প্রস্তাব তুলে ধরে বাংলাদেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিদেশি কোম্পানিগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের এই সংগঠন ফিকি।
আলোচনায় কর, শুল্ক ও মূসক হ্রাসের জন্য বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরে ফিকি।
সভায় ফরেন চেম্বারের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির সভাপতি ও বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রূপালী চৌধুরী।
রূপালী চৌধুরী বলেন, আমরা করজাল সম্প্রসারণের কথা বলেছি এবং কার্যকর করহার কমানোর কথা বলেছি।
কোভিডের পর যুদ্ধ শুরু হয়েছে, এতে ডলারের দাম ৮৬ টাকা থেকে ১২২ টাকায় উঠে গেছে। এর ফলে কিছু খাতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।
তাই সামষ্টিক অর্থনীতির বিষয়গুলো খেয়াল রাখা উচিত।
ফরেন চেম্বারের পরামর্শক স্নেহাশীষ বড়–য়া বলেন, ভিয়েতনামে করপোরেট করহার ২০ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ায় ২২ শতাংশ। অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থাভুক্ত দেশগুলোতেও এই হার ২০ শতাংশ। কিন্তু বাংলাদেশে এটি সাড়ে ২৭ শতাংশ। তাহলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কেন বাংলাদেশে আসবে? জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এই দেশগুলোর কর আদায়ের ধারা আমাদের এখানে নেই।
তালিকাভুক্ত কোম্পানির সঙ্গে করপোরেট করহারের পার্থক্য সাড়ে ৭ শতাংশ। এটি কমানোর দাবি উঠলে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এটি আরও বাড়বে কি না, তা আমি বিবেচনা করছি।
গাড়ির লাইসেন্স ও মূসক রিটার্নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন দাখিলের নথি বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেন ফিকির সহসভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী।
তিনি বলেন, আমাদের চেম্বার থেকে ২২টি খাতে মোট রাজস্বের প্রায় ৩০ শতাংশ আসে।
জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বাজার হিস্যা অনুযায়ী কোন খাত কত রাজস্ব দিচ্ছে, এমন কোনো গবেষণা আমাদের নেই।
ফরেন চেম্বারের পরিচালক এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ওরাকলের বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের কান্ট্রি ডিরেক্টর রুবাবা দৌলা বলেন, বৈশ্বিক কারণে সবাই এখন বিনিয়োগ বিষয়ে সতর্ক। জ্বালানিসংকটের কারণে আমরা অভিঘাত সহ্য করছি। যদি আবার করের ক্ষেত্রে কোনো অভিঘাত আসে, তাহলে এটি দ্বিতীয় অভিঘাত হবে। এছাড়া একটি ডেটাবেজ তৈরিতে এখন ৬৯ শতাংশ কর দিতে হয়।
মোবাইল অপারেটর রবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জিয়াদ সাতারা বলেন, সিমকার্ড বদলের ক্ষেত্রে নতুন সিমের মতো কর ধার্য করা ঠিক নয়। এটি কমানোর প্রস্তাব করছি।
জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ৫০ বছর ধরে কাকে কত ছাড় দেওয়া হয়েছে, তার ফলাফল কী, তা নিয়ে কোনো গবেষণা নেই। কর্মসংস্থান বা যেসব কারণে করছাড় দেওয়া হয়েছে, সেই উদ্দেশ্য কতটা অর্জিত হয়েছে, তা যাচাই করা প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন