মালদ্বীপ প্রতিনিধি আবু জাহের : মালদ্বীপ হুলেমালে অনস্থিত বাংলাদেশ দুতাবাসের আয়োজনে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উদ্যাপন করেছে। এ উপলক্ষে ০৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মালে-র জেন মালদ্বীপ মালে বাই শাংরি-লা হোটেলে এক বর্ণাঢ্য আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপ প্রজাতন্ত্রের মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড: আব্দুল্লাহ খালিল। এছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রী, সংস্কৃতি মন্ত্রী, প্রেসিডেন্টস অফিসের ফরেন রিলেশনস মন্ত্রী, মালদ্বীপের সংসদ সদস্যবৃন্দ, মালদ্বীপ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের হাইকমিশনার ও রাষ্ট্রদূতগণ, কূটনৈতিক কোরের সদস্যবৃন্দ এবং মালদ্বীপে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়, যার পর বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।
স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশের মান্যবর হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, যাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় সম্ভব হয়েছিল।
হাইকমিশনার তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতি ও উন্নয়নের কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থান এবং চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বর্তমান সরকার, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে “সবার আগে বাংলাদেশ” ভিশনের আলোকে ন্যায়বিচার, সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বৈশ্বিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন, বিশেষ করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথা তুলে ধরেন এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদে বাংলাদেশের মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রার্থিতার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে হাইকমিশনার বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার গভীর ও ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের কথা তুলে ধরেন, যা পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং শক্তিশালী জনগণ-জনগণ সংযোগের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। তিনি বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার সন্তোষজনক অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে এ সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি মালদ্বীপের মান্যবর রাষ্ট্রপতি ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু এবং মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল্লাহ খালিলের সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরের প্রশংসা করেন এবং এটিকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেন।
প্রধান অতিথি, মালদ্বীপ প্রজাতন্ত্রের মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল্লাহ খালিল, তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে মালদ্বীপের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ–মালদ্বীপ সম্পর্ক এবং রাষ্ট্রপতি মুইজ্জুর বাংলাদেশ সফর নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরে বিভিন্ন ভিডিও উপস্থাপন করা হয়। কেক কাটা, ফটোসেশন এবং র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।
সংবর্ধনা শেষে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়, যেখানে অতিথিরা আন্তরিক আপ্যায়নের মাধ্যমে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মতবিনিময় করেন, যা বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার স্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন ঘটায়
মন্তব্য করুন