বাংলাদেশের আবাসন খাত আজ এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। রাজনৈতিক অস্থিরতা, নির্মাণসামগ্রীর লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, বিনিয়োগ সংকট এবং ক্রেতাদের অনীহায় দেশের অধিকাংশ রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কোথাও থেমে গেছে নির্মাণকাজ, কোথাও বিক্রি বন্ধ হয়ে পড়ে আছে শত শত ফ্ল্যাট। অনেক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া পর্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে। এমন বাস্তবতায় দেশের আবাসন খাত যেন ধীরে ধীরে অনিশ্চয়তার অন্ধকারে হারিয়ে যেতে বসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রড, সিমেন্ট ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নির্মাণ ব্যয় কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে বাজারে ক্রেতা সংকট থাকায় বিনিয়োগের অর্থও ঘুরে আসছে না। ফলে আবাসন কোম্পানি ও গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে অনাস্থা, হতাশা ও নানা ধরনের ভুল বোঝাবুঝি। দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত আজ টিকে থাকার লড়াই করছে।
তবে এই হতাশার মধ্যেও ব্যতিক্রমী এক স্বপ্ন নিয়ে সামনে এগিয়ে এসেছে “ইস্তাম্বুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট”। শুধুমাত্র প্রচলিত রিয়েল এস্টেট ব্যবসার গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মানের “হালাল ট্যুরিজম” ভিত্তিক পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস, ইসলামী মূল্যবোধসম্পন্ন আধুনিক পর্যটন ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে রয়েছেন শহীদ আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পুত্র মাসুদ সাঈদী। তরুণ উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে তিনি এমন একটি ব্যবসায়িক মডেল দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন, যেখানে ধর্মীয় মূল্যবোধ, আধুনিক পর্যটন এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবার সমন্বয় ঘটবে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং সাহসী উদ্যোগ দেশের পর্যটন খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটির একাধিক পরিচালক দীর্ঘদিন তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করে আন্তর্জাতিক পর্যটন ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। বিশেষ করে তুরস্কের ঐতিহাসিক নগরী ইস্তাম্বুলের আদলে বাংলাদেশের সমুদ্রকন্যা কুয়াকাটায় আন্তর্জাতিক মানের রিসোর্ট গড়ে তোলার স্বপ্ন থেকেই “ইস্তাম্বুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট”-এর যাত্রা শুরু হয়।
প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজ্ঞ মার্কেটিং ব্যক্তিত্ব ডিএম ইন্দাদুল হক বাবুসহ আরও কয়েকজন উদ্যমী তরুণ উদ্যোক্তা। বীমা, কর্পোরেট ব্যবস্থাপনা ও মার্কেটিং খাতে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তারা একটি সুসংগঠিত পর্যটনভিত্তিক ব্যবসায়িক কাঠামো দাঁড় করানোর চেষ্টা করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কুয়াকাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে প্রায় ত্রিশ বিঘারও বেশি জমি ক্রয় ও রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও কিছু জমির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে দৃশ্যমান উন্নয়নকাজও শুরু হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তবে নতুন কোনো উদ্যোগের মতো এই প্রতিষ্ঠানটিকেও সমালোচনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে নানা অভিযোগ ও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশেষ করে একটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে “ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাৎ বা শত কোটি টাকা গায়েব হওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। বিনিয়োগকারীদের অর্থ প্রকল্পের উন্নয়ন কাজেই ব্যয় করা হচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ে নিয়মিত উন্নয়ন কার্যক্রম চলছে।”
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে “হালাল ট্যুরিজম” এখনো একটি সম্ভাবনাময় কিন্তু অনেকটাই অনাবিষ্কৃত ক্ষেত্র। মালয়েশিয়া, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে এই ধরনের পর্যটন ব্যবস্থাপনা ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ফলে বাংলাদেশেও যদি আন্তর্জাতিক মানের ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে ওঠে, তাহলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি তৈরি হবে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে অবশ্যই তার সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া উচিত। কিন্তু একইসঙ্গে সম্ভাবনাময় কোনো উদ্যোগকে গুজব, বিভ্রান্তি কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার মাধ্যমে ধ্বংস করে দেওয়ার সংস্কৃতি থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে। কারণ একটি ব্যবসা ধ্বংস হলে শুধু উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন না; ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাজারো শ্রমিক, পরিবার এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি।
আজ যখন দেশের আবাসন ও বিনিয়োগ খাত চরম চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন নতুন কর্মসংস্থান, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও পর্যটন শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে যারা কাজ করছেন, তাদের প্রতি দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা সময়ের দাবি। সমালোচনা থাকবে, জবাবদিহিতাও থাকবে—তবে তা হতে হবে তথ্যনির্ভর, ন্যায়সঙ্গত এবং দেশের উন্নয়ন ও মানুষের স্বার্থকে সামনে রেখে।
মন্তব্য করুন