আবু জাহের মাধবপুর হবিগঞ্জ :- হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার দেশের বৃহৎত্তম চা বাগান, সুরমা চা বাগান।যা গত চার সপ্তাহের ও বেশী সময় ধরে শ্রমিকদের তলব (মজুরি) বন্ধ থাকায় চরম সংকটের মধ্যে রয়েছে । প্রায় ২২শ শ্রমিক পরিবারসহ কয়েক হাজার মানুষ এখন অনিশ্চয়তা ও অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে ।
এক সময় যেখানে প্রতিদিন সকাল হলে দলবেঁধে শ্রমিকরা কাজে যেতো সেখানে এখন নেমে এসেছে নীরবতা। কাজ নেই, আয় নেই-শ্রমিকদের চোখেমুখে ভেসে উঠছে হতাশা ও দুশ্চিন্তা।
বর্তমানে জিনিসপত্র চরা দামে যেখানে শহরের মানুষকে সংসার চালাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। সেই সময়ে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি মাএ ১৭৮ টাকা।এই টাকা দিয়ে মানুষের সংসার চালানো দুঃস্কর। গত চার সপ্তাহের ও বেশী সময় ধরে তাদের সাপ্তাহিক তলব (মজুরী) না পাওয়ার কারনে প্রায় ২২ শ পরিবারের সবাই এক মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এমন করুণ পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে বাগানের শ্রমিক গোপেশ ভুমিজ বলেন, “আগে সপ্তাহ শেষে মজুরি পেলে পরিবার নিয়ে কিছুটা স্বস্তিতে থাকতে পারতাম। এখন সেই সুযোগও নেই। কাজ বন্ধ, আয় বন্ধ-কীভাবে সংসার চালাবো বুঝতে পারছি না।” তার মতো আরও শত শত শ্রমিক একই দুর্ভোগের কথা জানিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ মোঃ ফয়সলের পুত্র ও সায়হাম নিট কম্পোজিটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ শাফকাত আহমেদ। তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাগানের শ্রমিকদের জন্য ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫০০ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। পাশাপাশি শ্রমিকদের বিশুদ্ধ পানির সমস্যা বিবেচনায় চারটি টিউবওয়েল স্থাপনের জন্য আরও ৪০ হাজার টাকা অনুদান দেন।
শ্রমিক নেতা প্রদীপ কৈরি বলেন, “হঠাৎ করে বাগানের এমন পরিস্থিতিতে আমরা সবাই চরম বিপাকে পড়েছি। প্রায় ২২শ শ্রমিক পরিবার এখন দিশেহারা। আমরা চাই দ্রুত বাগান চালু হোক এবং শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য মজুরি ফিরে পাক। এই দুঃসময়ে এমপি সাহেবের ছেলের দেওয়া সহায়তা আমাদের জন্য অনেক বড় সহায় হয়ে এসেছে।”
সৈয়দ মোহাম্মদ শাফকাত আহমেদ বলেন, চা বাগানের শ্রমিকরা তাদের শ্রমের ওপর নির্ভর করেই জীবনযাপন করেন। তাই তাদের এই দুর্দশা দেখে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বলেন, “বাগানের সমস্যা দ্রুত সমাধান হওয়া জরুরি। এতে শ্রমিক ও মালিক—উভয়েরই মঙ্গল হবে। শ্রমিকদের এই কঠিন সময়ে আমরা পাশে আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকবো।”
অন্যদিকে বাগান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে তারা কাজ করে যাচ্ছে। বাগানের ম্যানেজার বাবুল সরকার বলেন, “শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করে দ্রুত বাগান চালু করার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। মালিকপক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন তারা দ্রুত এর সমাধান করবেন এবং শ্রমিকদের সকল পাওনা পরিশোধ করবেন।
মন্তব্য করুন