রাজধানী ঢাকাকে একটি সুপরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তুলতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ রাজউক এর প্রচেষ্টা দীর্ঘদিনের। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রাজধানীকে কয়েকটি জোনে ভাগ করে ১৫২৮ বর্গ কিলোমিটার জায়গা ব্যাপ্তিতে ভবন নির্মাণের জন্য রাজউক ফ্লোর এরিয়া রেশিও (ফার) সহ ভবন নির্মাণ সম্পর্কিত একটি সুনিদৃষ্ট ও সময়োপযোগী গাইডলাইন প্রদান করে থাকে। ভবন নির্মাণকারীরা রাজউকের নির্দিষ্ট গাইডলাইন মেনে ভবন নির্মাণের জন্য আবেদন করলে রাজউক তদন্ত সাপেক্ষে সেই মর্মে অনুমোদন প্রদান করে বলে জানা যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে রাজউক জোন ৫/১ এলাকাধীন মোহাম্মদপুর অংশে ব্যাপক অনিয়ম ও আইন অমান্য করে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি ভবন নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে শুধুমাত্র আবেদন করেই অনেকে চালিয়ে যাচ্ছেন ভবন নির্মাণ কার্যক্রম। আর এ সকল নির্মাণ কার্যক্রম অনেকটা রাজউকের চোখে ধুলো দিয়েই পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনই দুটি ভবনের নির্মাণ কার্যক্রম চলমান রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলায় ৪০ ফিট মেইন রোডে রাজধানী হাউজিংয়ে বাড়ি নাম্বার ৪৪ এবং বসিলা মোহাম্মদপুর গার্ডেন সিটি নর্থ সাউথ রোডের এ ব্লকে বাড়ি নাম্বার ৪/১ এই ঠিকানায়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় শুধুমাত্র রাজউকে আবেদন করা হয়েছে এমন আবেদন নম্বর এবং তারিখ সম্বলিত একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে পুরোদমে নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। রাজউকের নির্মাণ আইনের সূত্র ধরে জানা যায়,রাজউকের ভবন নির্মাণ সম্পর্কিত স্মারক নম্বর সহ অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত, ভবন নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্পূর্ণ অবৈধ ও বেআইনি এবং এটি সুস্পষ্ট আইনের লঙ্ঘন বলে বিবেচিত হতে পারে। এ বিষয়ে একজন ভবন নির্মাণকারীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান তারা এখনো অনুমোদন পাননি। অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণ বৈধ কিনা এ প্রশ্নের কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেন নি। এ বিষয়ে আরো জানতে তিনি এই ভবনের বিষয়ে তাদের ইঞ্জিনিয়ার এর সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন কিন্তু মুঠোফোনে ইঞ্জিনিয়ার এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে ইঞ্জিনিয়ার ফোন রিসিভ করেননি। অপর ভবনটির নির্মাণকারীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এসকল বিষয়ে জানতে রাজউকের জোন ৫/১ এর অথরাইজড অফিসার সাইদা ইসলাম এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান অনুমোদন ছাড়া শুধুমাত্র আবেদন করে এ ধরনের ভবন নির্মাণ করার কোন সুযোগ নেই। তিনি আরো জানান এ ধরনের অবৈধ নির্মাণাধীন ভবনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কালীন সময়ে আবেদনের বিষয়টি সামনে এনে কর্তৃপক্ষকে বিব্রত করার একটা প্রচেষ্টাও হতে পারে। অবৈধ ভবনের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে গৃহীত পদক্ষেপ সমূহ সম্পর্কে জানতে কিছুদিন আগে সহকারি অথরাইজড অফিসার আব্দুল্লাহ আল আজওয়াদ এর মুখোমুখি হলে তিনি জানান,এক্ষেত্রে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ভবনে বিদ্যুৎ,পানি ইত্যাদি সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়।
এখন প্রশ্ন উঠেছে রাজউক যদি ব্যবস্থা নিয়েই থাকে তাহলে মাসের পর মাস ব্যাপী নির্মাণ কাজ সামান্য একটি আবেদনের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে কিভাবে চলমান থাকে? তবে কি এখানে রয়েছে কোনো শুভংকরের ফাঁকি? এ বিষয়ে অধিকতর অনুসন্ধান চলমান রয়েছে যে বিষয়ে বিস্তারিত পরবর্তী পর্বগুলোতে। বিশেষজ্ঞদের মতে এভাবে রাজউকের অনুমতি না নিয়ে, কেবলমাত্র আবেদন করেই ভবন নির্মাণ কার্যক্রম চলমান থাকলে, ভবিষ্যতে মানুষ রাজউকের নিয়ম-কানুন যথাযথভাবে মেনে চলতে অনিহা প্রকাশ করতে পারে। আর যেটি হতে পারে রাজধানী ঢাকাকে পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এক বিরাট হুমকি। এক্ষেত্রে এ সকল ভবন নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ও সংশ্লিষ্ট জোনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল কর্মকর্তাদের সঠিক জবাবদিহিতার আওতায় আনতে পারলে এ ধরনের অবৈধ ভবন নির্মাণ কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
মন্তব্য করুন