মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মালিরঅংক এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে হেরোইনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছিল, ডিবি পুলিশের এ অভিযান তাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন লৌহজং উপজেলার আপর এলাকার সিরাজ বেপারীর ছেলে মো. জয় বেপারী (২৮), বেজগাঁও এলাকার মৃত সামসুল হক বেপারীর ছেলে রফিকুল ইসলাম ওরফে রানা (৩৩), একই এলাকার মৃত লতিফ দেওয়ানের ছেলে অন্ত দেওয়ান (২১) এবং দক্ষিণ মশদগাঁও এলাকার আমির হোসেনের ছেলে মো. রিফাত হোসেন ওরফে ডাকু (২৪)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদকদ্রব্যের অবৈধ বিস্তার ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে ডিবি পুলিশের একটি দল মালিরঅংক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহভাজন চার ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মাদক শুধু একটি পরিবারকে নয়, ধীরে ধীরে একটি সমাজকেও ভেতর থেকে দুর্বল করে দেয়। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। মাদকের সহজলভ্যতা তরুণদের বিপথগামী করার পাশাপাশি পরিবারে অশান্তি, সামাজিক অপরাধ ও নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে মাদকবিরোধী অভিযানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের পরও কিছু অসাধু ব্যক্তি নানা কৌশলে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ফলে শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, মাদক সরবরাহের মূল উৎস, বিক্রেতা ও সংশ্লিষ্ট চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে চারজন গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত ও আরও জোরদার করা হলে এলাকায় মাদকের বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের পাশাপাশি মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়া তরুণদের পুনর্বাসন ও সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
অভিভাবকদের মতে, একটি সন্তান মাদকে জড়িয়ে পড়লে তার প্রভাব শুধু ওই সন্তানের জীবনে সীমাবদ্ধ থাকে না; পুরো পরিবারকে অনিশ্চয়তা ও মানসিক কষ্টের মধ্যে পড়তে হয়। তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্মিলিতভাবে মাদকের বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সচেতন মহলের প্রত্যাশা, লৌহজংয়ের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার হবে। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা করতে মাদক ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো হবে এমন প্রত্যাশাই এখন স্থানীয়দের।
মন্তব্য করুন