রাজধানীর মিরপুরের শাহআলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমের আচমকা প্রত্যাহার নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল জুড়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। বাংলাদেশ পুলিশের এক চৌকস ও নিষ্ঠাবান কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত এই ওসির বিদায়ে একদিকে যেমন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে এলাকার চিহ্নিত অপরাধীরা।
স্থানীয় সূত্র ও একাধিক বাসিন্দার সাথে কথা বলে জানা যায়,শাহআলী থানায় যোগদানের পর থেকেই অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেন ওসি জাহাঙ্গীর আলম। তাঁর বিরতিহীন অভিযানের ফলে মিরপুরের চিহ্নিত চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু, ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের আস্তানা তছনছ হয়ে যায়। বিশেষ করে ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং থানায় আসামি গ্রেপ্তারের পর যেকোনো ধরনের তদবির ও অনৈতিক দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করায় অপরাধী চক্রের মূল উপাটন হতে শুরু করে।
পরপর কয়েকটি অভিযানের কারণে স্থানীয় একাধিক অপরাধী ও প্রভাবশালী চাঁদাবাজ চক্রের চক্ষুশূলে পরিণত হন এই পুলিশ কর্মকর্তা। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে একাধিকবার ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করা হলেও সফল হতে পারেনি চক্রটি। তবে সম্প্রতি ‘রাড্ডা’ সংক্রান্ত একটি ঘটনাকে ইস্যু করে একটি কুচক্রী মহল তাঁকে সরিয়ে দিতে সক্ষম হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও একাধিক রাজনৈতিক নেতাকর্মীর মতে, রাড্ডা কেন্দ্রিক বিষয়টি ছিল কেবল একটি উসিলা। মূল কারণ ছিল ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং মাদক কারবারিদের শক্ত হাতে দমন করা। সিন্ডিকেট ভাঙায় যাদের স্বার্থে আঘাত লেগেছিল, সেই চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের প্রত্যক্ষ ইন্ধনেই এই বদলি বা প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটেছে।
উল্লেখ্য, শাহআলী থানায় দায়িত্ব পালনকালে ওসি জাহাঙ্গীর আলম একজন জনবান্ধব ও সজ্জন ব্যক্তিত্ব হিসেবে বেশ পরিচিত লাভ করেন। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পুলিশের সেবামূলক মেলবন্ধন বজায় রাখতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন।
একজন সৎ ও সাহসী কর্মকর্তার এমন বিদায়ে শাহআলী থানা এলাকার অপরাধচিত্র আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে কি না-এখন সেটাই স্থানীয় সাধারণ মানুষের মূল দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন