রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউনে রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই সাড়ে ১১ কাঠা জমির ওপর ১৮ তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। রাজউকের জোন-৫/১-এর আওতাধীন এলাকায় ভবনটির নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে রাজউকের নজরদারি ও আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে। বেশ কয়েক বছর ধরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের এসব এলাকার আবাসন প্রকল্পকে ঘিরে রাজউকের অবস্থান অনেকটা নীরব দর্শকের মতো বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। মাঝে মাঝে অভিযান, বিদ্যুতের মিটার অপসারণ, নোটিশ ও জরিমানার মতো কিছু কর্মকাণ্ডের মধ্যেই যেন সীমাবদ্ধ রাজউকের ওই সকল এলাকার কার্যক্রম।
মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে সেখানে একটির পর একটি করে কয়েক হাজার ভবন নির্মিত হয়েছে রাজউকের চোখের সামনে। এতে সরকার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে অনুমোদনহীন ভবনগুলো রাজউকের নিয়ম-নীতি না মেনে ইচ্ছামতো নির্মিত হওয়ায় সেগুলো জনসাধারণের বসবাসের জন্য কতটুকু নিরাপদ, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বেশির ভাগ ভবনেরই নেই নিজস্ব বিকল্প স্বয়ংক্রিয় সৌর চালিত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। অগ্নিনির্বাপণের ক্ষেত্রে রাজউকের নির্দেশিত গাইডলাইন মানারও তেমন কোনো চেষ্টা দেখা যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজউকের অনুমোদন ও নকশা অনুমোদন ছাড়াই সরকারি নির্দেশিত আইনকে উপেক্ষা করে বীরদর্পে ভবন নির্মাণ করে চলেছেন এসব এলাকার কতিপয় ডেভলপার ও নির্মাণকারী—এমনই অভিযোগ রয়েছে।
এসব ভবন নির্মাণকারীদের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর নির্মাণকারী হিসেবে চন্দ্রিমা মডেল টাউনের এভিনিউ-২, ই-ব্লকের ‘সাউথ হেভেন’ নামের ভবনটির মালিকপক্ষের নাম আলোচনায় এসেছে।
রাজউক-অধ্যুষিত এলাকায় ‘ইতিহাস’ সৃষ্টি করে মাত্র সাড়ে ১১ কাঠা জমির ওপর ১৮ তলা ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজউকের নিয়ম-নীতি পর্যালোচনা করে এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সাড়ে ১১ কাঠা জমির ওপর সর্বোচ্চ ৮ থেকে ১০ তলা ভবনের অনুমোদন দেওয়া হয়ে থাকে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউনে সাড়ে ১১ কাঠা জমির ওপর নির্মিত ১৮ তলা ভবনটি ইতোমধ্যে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সামান্য নকশা বিচ্যুতি হলেও বিভিন্ন সময় রাজউক যেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে, সেখানে এই ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে রাজউকের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।
বিষয়টি সম্পর্কে জোন-৫/১-এর অথরাইজড অফিসার সাইদা ইসলামকে গত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে ছবি ও ভিডিও পাঠিয়ে অবগত করা হলেও দীর্ঘ এক মাসেও তিনি কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।
পরবর্তীতে খুদেবার্তা পাঠিয়ে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এ বিষয়ে সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করে জানাবেন। অভিযান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি জানান, অভিযানের সংখ্যা উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-১ থেকে নির্ধারণ করা হয়। এ বিষয়ে প্রতিবেদকের কোনো মতামত থাকলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন বলেও জানান তিনি।
কোথাও সাড়ে ১১ কাঠা জমিতে ৮ থেকে ১০ তলা ভবনের অনুমোদন, আবার কোথাও অনুমোদন ছাড়াই একই পরিমাণ জমিতে ১৮ তলা ভবন নির্মাণের পরও রাজউকের নীরবতা—এ যেন রাজউকের নিয়ম-নীতি -এক দেশে দুই নীতি’।
ভবন নির্মাণের বিষয়ে মালিকপক্ষের বক্তব্য জানতে সেন্টু নামে ভবন নির্মাণ সংশ্লিষ্ট একজন ব্যক্তির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিরক্তের সহিত জানান ভবনটি অনেকের মালিকানাধীন। প্রতিবেদক নিজের পরিচয় দেওয়ার পর তিনি বলেন, “আপনি আমাকে চেনেন? আপনি আসেন দেখি, আপনি কোন পত্রিকার কত বড় সাংবাদিক?”
রাজউকের নিয়ম-নীতি না মেনে অনুমোদনহীন ও অপরিকল্পিতভাবে এ ধরনের ভবন নির্মাণ চলতে থাকলে ভবিষ্যতে রাজউকের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।রাজউকের নিয়ম নীতিকে তোয়াক্কা না করা,এধরনের ভবন নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে সঠিক সময়ে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আইন অমান্যকারীদের সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের, যেটি হতে পারে দেশের জন্য চরম অস্বস্তিকর ও উদ্বেগজনক।
মন্তব্য করুন