কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘জুলাইয়ের কণ্ঠস্বর: তারুণ্য, প্রত্যয় ও প্রতিরোধ’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের শারাফাত চৌধুরী মাল্টি-পারপাস হলে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জনাব ববি হাজ্জাজ, এমপি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ট্রাস্টি বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও কিংবদন্তি ধারাভাষ্যকার চৌধুরী জাফর উল্লাহ শারাফাত। বিষয়টির ওপর বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ সানজাদ শেখ।
উক্ত অনুষ্ঠানে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন স্মৃতিচারণ, জুলাইয়ে কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের অবদান সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেন কাজী ইসতাফ আলভী সভাপতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ শাখা আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল
সিনিয়র সহ-সভাপতি: ইমতিয়াজ উদ্দিন বাবর
সাধারণ সম্পাদক: শাকির আহমেদ
সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক: তাওহীদ আহমেদ
সাংগঠনিক সম্পাদক: মোঃ রুবেল হোসেন ছাত্রদল কানাডিয়ান শাখার বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃবৃন্দ
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ভাইস চ্যান্সেলর (মনোনীত) অধ্যাপক ড. এইচ এম জহিরুল হক। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বিবি হাজ্জাজ বলেন, “১৮ জুলাই কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির সামনে আমি আন্দোলনে ছিলাম। ৫ আগস্টের মাত্র তিন দিন পরেই এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম ক্লাস শুরু করে। আমি অবাক হয়েছি আপনাদের এই তৎপরতা দেখে।”
তিনি আরও বলেন, তিনি নিজ চোখে দেখেছেন প্রায় ৪০ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য ক্যাম্পাস দখলে নিয়েছিলেন এবং ভবন ভাঙচুর করা হয়েছিল। এমন ভগ্নদশা থেকে অল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরিয়ে আনা ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ তা সফলভাবে করে দেখিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশংসা করে বলেন, প্রতিষ্ঠার মাত্র এক দশকের মধ্যেই শিক্ষার মানের কারণে প্রতিষ্ঠানটি অনেক দূর এগিয়েছে। পাশাপাশি ডিপার্টমেন্ট অব শিপিং অ্যান্ড মেরিটাইম সায়েন্স চালুর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চৌধুরী জাফর উল্লাহ শারাফাত বলেন, শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে যা যা করা প্রয়োজন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড তা করবে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একটি রূপরেখাও আহ্বান করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অধ্যাপক ড. এইচ এম জহিরুল হক বলেন, সমাজ পরিবর্তন করতে হলে প্রথমে নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে। এজন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নিজের উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গড়ে তোলার প্রতি মনোযোগী হতে হবে।
আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ, তারুণ্যের ভূমিকা, প্রত্যয় ও প্রতিরোধের চেতনা এবং দেশ গঠনে তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেন। পরে উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
মন্তব্য করুন