ঢাকার রাজধানীর মিরপুর-১ দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে নিম্ন আয়ের নারী ও শিশুদের নাম মাত্র কিছু টাকার বিনিময়ে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে এমসিএইচ-এফপি সেন্টার যা রাড্ডা নামেই সাধারণ মানুষের কাছে সু পরিচিত। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের জায়গার উপর রাড্ডা যে দীর্ঘদিন যাবত সেবা দিয়ে আসছে এই জায়গাটি জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ সমবায় দোকানদার মালিক সমিতির নামে যে বরাদ্দ দিয়েছিল এই বিষয়টি কখনোই আমলে নেয়নি রাড্ডা সেন্টারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।তবে সমমনা সমবায় সমিতির নামে বরাদ্ধ কৃত কাগজপত্র দেখলে মনে হবে গৃহায়ন কতৃপক্ষ জেনে বুঝেই রাড্ডার জায়গাটি সমিতির নামে বরাদ্ধ দিয়েছিল। জনমনে একটাই প্রশ্ন কেনই বা রাতের আধারে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে রাড্ডা নামক সেবামুলক প্রতিষ্ঠান এই নিয়ে চলছে জনমনে নানা রকম প্রশ্ন আর এই প্রশ্নের উত্তর একমাত্র দিতে পারবে জাতীয় গৃহায়ান কতৃপক্ষ তবে তিনারা চোখ মুখ বন্ধ করে বসে কেন তামসা দেখছে এ যেন উদুর পিন্ডে বুদোর ঘাড়ে দেওয়ার মতো কাহিনী। স্থানীয় এলাকাবাসীদের অনেকের অভিযোগ রাড্ডা নিয়ে শুরু হয়েছে বিএনপি’র রাজনীতির নতুন মোড়।সরকারি দলীয় লোক দলীয় লোকের বিপক্ষেই কথা বলছে।, একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ একটি কুচক্রী মহল নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য রাড্ডাকে রাজনৈতিক ঢাল হিসাবে ব্যবহার করছেন তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য।রাড্ডা কে পুঁজি করে নতুন ধারার রাজনৈতিক কৌশল অবলম্বন করছেন। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন আশেপাশে একাধিক মার্কেট গুলো লিজ নিয়ে তারা মাকেট বানিয়ে দিব্বি ব্যাবসা করছে। তাহলে সমমনা সমিতির অপরাধ কি? সরকারের পক্ষ থেকে একাধিক বার উচ্ছেদ নোটিশ দেওয়া হলেও তা যেন কাগজে-কলমেই রয়ে গেছে,অভিযোগ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের। মাঝখানে দ্বিধা দ্বন্দ্বে ঝুলছে টাকা দিয়েও বরাদ্ধিকত জায়গা দখল না পেয়ে সমিতির সদস্যরা। এলাকার সুশীল সমাজের নাগরিকদের প্রশ্ন সমস্য যদি থেকেই থাকে তাহলে তার দায়ভার গৃহায়ন কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে। অথচ সেই জাতীয় গৃহায়ন কতৃপক্ষের কোন মাথা ব্যাথা নেই কারণ মনে হচ্ছে সর্ষের মধ্যেই ভূত লুকিয়ে আছে। রাড্ডার জায়গাটি সমমানা দোকানদার সমবায় সমিতি লিঃ এর নামে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল কি কাগজ পত্র না দেখে এই জবাব দিবে কে। সামাজিক প্রতিষ্ঠান রাড্ডা থাকা কালিন কিভাবেই বা দেওয়া হলো সমবায় সমিতির নামে বরাদ্ধ। কেনই বা দেখানো হলো সমববায় সমিতির দোকানদার সদস্যদের চোখে স্বপ্ন। তথ্য অনুসন্ধানে একাধিক ব্যাক্তি জানান প্রকৃত জায়গার মালিক তো গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ যা বাংলাদেশ সরকারের একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান সেই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের ভুলের মাশুল দিচ্ছে দুটি প্রতিষ্ঠান । ভুক্তভোগী ও সাধারণ জনগণের প্রশ্ন একই জায়গা রাড্ডা সেন্টার অবস্থিত থাকা সত্বেও বিবেচনা না করে কিভাবে ওই জায়গাটি আবার সমমনা সমবায় সমিতিকে বরাদ্ধ দেয়া হলো টাকার বিনিময়ে সাধারণ জনগন জানতে চাই। আসলে এর জন্যে দ্বায়ী কে যার মাশুল এখন দুইটি পক্ষকেই দিতে হলো মাঝখানে মিরপুরে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থা জনগণের সামনে দখলবাজ হিসেবে ক্ষুন্ন করেছে বিএনপির কিছু দলীয় নেতারা । ২০০৬ সালে বিএনপি চার দলীয় ঐক্য জোট ক্ষমতায় থাকাকালীন এই জায়গাটি বরাদ্দ দেয়া হয় সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড এর নামে। অনুসন্ধানে জানা যায় ২০০৬ সালে রাড্ডা সেন্টার ওই জায়গাটিতেই অবস্থিত ছিলো, তাহলে সামাজিক সেবামুলক প্রতিষ্ঠান থাকার পরেও কিভাবে সরকারের পক্ষ থেকে ওই জায়গাটিকে সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতিকে বরাদ্দ দিল, প্রশ্ন এখন একটাই কার স্বার্থে দেয়া হয়েছিল বরাদ্দ । মনে হচ্ছে যেন সর্ষের মধ্যেই ভূত। জাতীয়গৃহায়ন কতৃপক্ষ কি না দেখেই জায়গাটি বরাদ্দ দিয়েছিল, নাকি কারো স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে সমবায় প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দিয়েছিল। শুরু হয়েছে রাড্ডা নিয়ে রাজনীতি দলীয় কোন্দল ভাঙচুরের ঘটনায় সরকার দলীয় অনেক স্থানীয় নেতাকেও দোষারোপ করা হচ্ছে আসলে ও দোষী। এতকিছুর পরেও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ চোখ বুঝেই বসে আছেন তার চেয়ারে অনিয়ম আর দুর্নীতি দেখার জন্য কেউ নেই। ইতিমধ্যে ক্ষুন্ন করা হচ্ছে সরকারের ভাবমূর্তি রাজনৈতিক দলীয় কোন্দলে। আসলে কার ভুলের মাশুল কে দিচ্ছে এমনটাই বললেন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সংঘটিত এই বর্বরোচিত হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার নাম উঠে এসেছে। রাজনীতিতে বিরোধী মত থাকবে তবে দলের মধ্যেই যেন শুরু হয়েছে সরকার হটানোর রহস্যজনক ঘটনা আসলে দায়ী কে রাড্ডা নাকি সমবায় সমিতি। প্রশ্ন যেন থেকে যায় তাহলে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব কি? সমমনা সমবায় সমিতির সদস্যদের দাবি তারা রীতিমতো সরকারি কোষাগারে টাকা জমা দিয়ে এই সম্পত্তির লিজ নিয়েছেন। তাদের প্রতি কেন করা হচ্ছে এমন অন্যায় জোর করে তো আর বরাদ্ধপত্র নেয়নি নি নিয়ম মেনে ই পেয়েছেন তাদের দাবি। একদিকে মানব সেবা অন্যদিকে একটি সমবায় সমিতির সদস্যদের স্বপ্ন মাঝখানে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকান্ডের লীলাখেলা । সমমনা সমবায় সমিতির এক সদস্য নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক তিনি জানান ১৯/০৬/২০২২ ইং তারিখে মোহাম্মদ উল্ল্যাহ ডেপুটি কমিশনার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সচিব (উপ-সচিব) জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্লটটির উপর হইতে অবৈধ স্থাপন ও অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ প্রসঙ্গে নোটিশ দিয়েছিলেন যাহার সড়ক নং-২৫. ৩৮. ০০০০. ৫০১. ৫৬. ০৫৩. ২০-৫০৬৯.। শুধু তাই নয় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবৈধ দখলমুক্ত হয়েছে কিনা তা ১৮-৭-২০২২ তারিখের মধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণেই আজ রাড্ডা ও সমমানা সমবায় সমিতির মধ্যে ফ্যাসাদের সৃষ্টি আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক দ্বিধাদ্বন্দ্ব কে কাকে ফাঁসাবে চলছে যেন মহড়া এমনটাই জানান সমবায় সমিতির একাধিক ভুক্তভোগীরা। অনুসন্ধানে দেখা গেছে ২৪-৭-২০২২ ইং তারিখে একটা নোটিশে জানানো হয় ৩১-০৭ ২০২২ তারিখে রোজ রবিবার সকাল ১০ ঘটিকায় ৬ প্লাটুন পুলিশ ও ১ প্লাটন মহিলা পুলিশ ফোর্স নিয়োগ প্রয়োজনে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য। নোটিশে আরো উল্লেখ থাকে কারণবশত উক্ত উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থগিত করা হলো। সচিব ২৮. ০৭. ২০২২ এই নোটিশটি বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তর নির্বাহী প্রকৌশলী জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো হয় তবে নিয়ম কানুন যেন শুধু কাগজে-কলমেই রয়ে গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাড্ডা সেন্টার ভাঙচুর লুট পাটের ঘটনায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির একাধিক নেতাকে জড়ানো হচ্ছে কারো স্বার্থ হাসিলের জন্য । একদিকে রাড্ডা অন্যদিকে সমবায় সমিতির সদস্য মাঝখানে রাজনীতি। কেনই বা জড়ানো হচ্ছে রাজনৈতিক দলীয় নেতাদের নাম আসলেও কি তারা এই ভাঙচুরের সাথে জড়িত নাকি রাজনৈতিক কোন পূর্বের কোন্দলে জড়ানো হচ্ছে একাধিক দলীয় ব্যক্তির নাম। একটি সামাজিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠান অন্যটি সমবায় সমিতি লিমিটেড । যেহেতু জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ সমমান সমবায় সমিতি লিঃ কে বরাদ্দপত্র দিয়েছে তাহলে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে জবর দখল নেওয়ার দরকার কি। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ তো সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আর গৃহায়ন কর্তৃপক্ষই বা কেন নীরব? কেই বা করবে সমাধান? ওসি সাহেবের টেবিলের সামনে লেখা থাকে জায়গা জমি দখল অর্থ আদায় এই বিষয়ে থানার কোন এখতিয়ার নেই তবুও দেয়া হচ্ছে প্রশাসনের উপর দোষ।
এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা ও রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আসলে ঘটনাটা কেন ঘটেছে কি কারনে ঘটেছে এখনো সেটা সাধারণ জনগণের অজানায় রয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের দাবি, অতি দ্রুত গৃহয়ান কতৃপক্ষ রাড্ডা ও সমবায় প্রতিষ্ঠান এর সাথে বসে সমাধান করবে এবং প্রকৃত জায়গার মালিক কে তা শনাক্ত করে জনসম্মুখে তুলে ধরবেন। সুশীল সমাজ ও মিরপুর এলাকার সাধারণ জনগনের দাবি ভবিষ্যতে যেন আর কোন রাড্ডার মতো সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ধ্বংসযোগে পরিণত না হয় সেদিকে সরকার সুদৃষ্টি রাখবে। জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রতি সাধারণ জনগনের প্রত্যাশা থাকবে ভুলের মাশুল যেন আর কোন সমবায় সমিতির প্রতিষ্ঠানকে দিতে না হয় । সমমনা সমিতি ও রাড্ডার বিষয়ে গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী ও ঢাকা মিরপুর ২ ডিভিশনের কর্মকর্তারা কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি।
মন্তব্য করুন