গোপালগঞ্জ জেলার মকসুদপুর থানার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কে এই রবিউল ইসলাম? এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কালো টাকার গরমে নিজ গ্রামের বাসিন্দাদের ওপর অনেক অত্যাচার ও অন্যায় করে থাকেন তিনি।
রবিউল ইসলাম ওরফে মিঠু মুন্সির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ, সেই বিষয়ে তথ্য জানতে সরেজমিনে গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোপালপুরের একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, তাঁরা রবিউল ইসলামকে মাদকসম্রাট হিসেবেই চেনেন। একাধিক ব্যক্তিবর্গ আরও জানান, দাড়ি-টুপি-পাঞ্জাবি পরে নিজেকে ঈমানদার বলে দাবি করেন, আসলে এটি তাঁর বেশ। একজন মুসলিমের বিরুদ্ধে কখনোই একাধিক থানায় একাধিক মাদক মামলা থাকতে পারে না বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর সূত্রে আরও জানা যায়, অবৈধ মাদক ব্যবসার কারণে গত ৩১-৭-২০২৬ তারিখে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে মকসুদপুর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি পদ থেকে রবিউল ইসলামকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ থাকে, রবিউল ইসলামের সঙ্গে কোনো প্রকার সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার জন্য উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সকল নেতৃবৃন্দের প্রতি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়।
এলাকাবাসী আরও জানান, অবৈধ মাদক ব্যবসা করে রবিউল মুন্সি প্রায় এক কোটি টাকা দিয়ে ক্রয় করেছেন একটি আলিশান বাড়ি। রবিউল মুন্সির বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় রয়েছে মাদক মামলা। উল্লেখ্য, কক্সবাজারের টেকনাফ থানার এফআইআর নম্বর ৮৮/২৪০, বংশাল থানার এফআইআর নম্বর ৭/৪২৭। এই মামলায় তিনি ২০২১ সালে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
এ ছাড়াও ডিএমপি পশ্চিম থানার এফআইআর নম্বর ২৩, তারিখ ১৫ নভেম্বর ২০২৪, জিআর নম্বর ৪২৯—এই মামলায় মো. রবিউল ইসলাম ওরফে রবিউল মুন্সি মাদক মামলার এজাহারভুক্ত একজন আসামি। তবুও যেন প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে অনায়াসে সুন্নতি বেশ ধারণ করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন মাদকসম্রাট রবিউল ইসলাম, এমনটাই জানান এলাকার স্থানীয় জনগণ।
তবে মাদক বিক্রয় ও মামলার বিষয়ে রবিউল ইসলামকে ফোন দিলে তিনি বলেন, “মামলার কাগজ উঠান, কী মামলা আছে দেখেন। যা মনে চায়, তাই নিউজ করেন।”
রবিউল ইসলামের চলাফেরা ও আচার-আচরণ নিয়ে মকসুদপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে রয়েছে নানা কৌতূহল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, রবিউল মুন্সি হঠাৎ করে আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি মাদক বিক্রি করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একজন মাদক ব্যবসায়ী, যার বিরুদ্ধে এতগুলো মামলা, তিনি কীভাবে দাড়ি-টুপি রেখে প্রশাসনের নজরকে ফাঁকি দিয়ে সাধুবেশে ঘুরে বেড়াতে পারেন?
এলাকার স্থানীয় জনগণ ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অতি দ্রুত রবিউল ইসলাম ওরফে রবিউল মুন্সিকে আইনের আওতায় এনে সঠিক তদন্ত করা হোক। বিস্তারিত আগামী পর্বে।