মোঃ উজ্জ্বল সরকার গাইবান্ধা : গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের বৃন্দাবনপাড়া (মধ্যরামচন্দ্রপুর) এলাকায় নির্মাণাধীন ‘সনাতনী মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল’ ঘিরে জেগে উঠেছে নতুন স্বপ্ন, নতুন প্রত্যাশা। আধুনিক চিকিৎসা ও চিকিৎসা শিক্ষার সমন্বয়ে গড়ে উঠতে যাওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যেই এলাকাবাসীর মনে আশার আলো ছড়িয়ে দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এক জাঁকজমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে হাসপাতালটির ভবনের ছাদ ঢালাই কাজের উদ্বোধন করা হয়।
শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা হরিদাস চন্দ্র তরনী দাসের সভাপতিত্বে মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শুভ উদ্বোধন করেন গাইবান্ধা-৩ (পলাশবাড়ী-সাদুল্লাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম লেবু মাওলানা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “এই মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালটি শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি এ অঞ্চলের মানুষের বহুদিনের স্বপ্নপূরণের প্রতীক। এটি চালু হলে পলাশবাড়ীসহ আশপাশের মানুষ ঘরের কাছেই আধুনিক ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবে। পাশাপাশি চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রেও এটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মন্ডল, পলাশবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ সারোয়ারে আলম খান, জামায়াত নেতা তাজুল ইসলাম মিলনসহ বিপুল সংখ্যক গণমাধ্যম কর্মী বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব।
এই মহতী উদ্যোগের স্বপ্নদ্রষ্টা এবং শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা হরিদাস বাবু তাঁর আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, “মানুষের কল্যাণে কিছু করার স্বপ্ন থেকেই এই মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের যাত্রা শুরু। আমরা এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ সম্মানজনক ও উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে। আজকের এই ছাদ ঢালাই সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।”
স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যেও এ উদ্যোগ নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, এই প্রতিষ্ঠান চালু হলে শুধু স্বাস্থ্যসেবাই নয়, এলাকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা স্থানীয় তরুণদের জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
অনুষ্ঠান শেষে দোয়া ও বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে দিনব্যাপী এই আয়োজনের।
এভাবেই এক টুকরো স্বপ্ন, একখণ্ড মানবিক উদ্যোগ ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে বাস্তবে—যা একদিন পলাশবাড়ীসহ পুরো অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার চিত্র বদলে দিতে পারে।
মন্তব্য করুন