রুমান খাঁন,স্টাফ রিপোর্টার :ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার মোহনপুর এলাকায় ঘটে যাওয়া আলোচিত শিশু নিশাত (৬) হত্যা মামলায় প্রধান সন্দেহভাজন ইসহাক নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই গ্রেপ্তারকে মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ জানায়, শনিবার বিশেষ অভিযান চালিয়ে ইসহাককে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকদিন আগে বাড়ির পাশ থেকে খেলতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় শিশু নিশাত। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজের প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর একটি বস্তার ভেতর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় জনতা। নির্মম এই হত্যাকাণ্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার পরপরই আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, স্থানীয়দের বক্তব্য এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে পুলিশ। এতে ইসহাকের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে নজরদারিতে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আটক করা হয়।
পুলিশ বলছে, তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য তদন্তকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্ত করতে ইসহাককে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।
নিশাতের পরিবার এই নৃশংস হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে। তাদের ভাষায়, “আমাদের শিশুটিকে যারা এভাবে হত্যা করেছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
এলাকাবাসীও মানববন্ধন ও প্রতিবাদের মাধ্যমে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত বিচার না হলে এমন অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো কঠিন হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির অভাব অপরাধীদের উৎসাহিত করছে। এ ধরনের স্পর্শকাতর মামলায় দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা গেলে সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
দ্রুত সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল ও বিচার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।
শিশু নিশাত হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্য গভীর বেদনার প্রতীক হয়ে উঠেছে। ইসহাকের গ্রেপ্তার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও এখন সবার প্রত্যাশা—ঘটনার পূর্ণ রহস্য উদঘাটন এবং দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা।
মন্তব্য করুন