কামরুল আহসান সোহাগ, পিরোজপুর : পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় আসন্ন কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ। প্রস্তুতিমূলক এ সভার সঞ্চালনা করেন নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দত্ত।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাসরিন জাহান, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস. এম. সাইদুল ইসলাম কিসমত, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা, উপ-পরিচালক পরিবার পরিকল্পনা, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি, জেলা তথ্য কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি, সোনালী ব্যাংকের প্রতিনিধি, চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।
সভায় জানানো হয়, আগামী ১৪ এপ্রিল সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। ঐ দিন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ সোহেল মঞ্জু আনুষ্ঠানিকভাবে নেছারাবাদ উপজেলার ১১৫ জন কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেবেন। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা হবে।
কর্মসূচি সফল করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও সভায় জানানো হয়।
সভায় জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, “কৃষক কার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা, যা কৃষকদের সরকারি সহায়তা প্রাপ্তি সহজ করবে। তাই এ কার্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। কোনো অবস্থাতেই কার্ডের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, বিশেষ করে ফেসবুকে আপলোড করা যাবে না—এ বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এই কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের একটি সুশৃঙ্খল ডাটাবেজ তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও অন্যান্য সহায়তা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সকল সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই কৃষকরা সেবা পান।”
অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে রাজনৈতিক দলসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন জেলা প্রশাসক।
সভায় উপস্থিত বক্তারা কৃষকদের কল্যাণে এ উদ্যোগকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে সফল বাস্তবায়নের জন্য সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মন্তব্য করুন