মিজানুর রহমান শিবগঞ্জ (বগুড়া): বগুড়ার শিবগঞ্জে অষ্টম শ্রেণির স্কুলছাত্রী মোছাঃ সাম্পা আক্তার (১১) অপহৃত হওয়ার ১০ দিন পার হয়ে গেলেও আজও উদ্ধার হয়নি সে। মামলার ৩নং আসামি ও প্রধান অভিযুক্ত জাহিদের চাচা এনামুল হককে গ্রেফতার করা হলেও বাকি আসামিরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হয়েছে।
গত ৭ এপ্রিল কিচক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে প্রকাশ্যে দিনের আলোতে সাম্পাকে অপহরণ করা হলেও ৯ দিন ধরে তার কোনো হদিস না মেলায় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। গত ১১ এপ্রিল শনিবার সন্ধ্যায় কিচক বাজার থেকে ৩নং আসামি এনামুল হককে পুলিশ গ্রেফতার করলেও মূল হোতা জাহিদ হাসানসহ অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের মতে, ১১ বছরের একটি শিশু দীর্ঘ ১০ দিন ধরে নিখোঁজ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরালো কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া দুঃখজনক। এ নিয়ে কিচক বাজারসহ আশপাশের এলাকায় প্রশাসনের তদারকি ও সদিচ্ছা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।
অপহৃত ছাত্রীর পিতা শাহীন আকন্দ কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, আমার মেয়েটা কোথায় আছে, কেমন আছে আমরা কিছুই জানি না। পুলিশ একজনকে ধরেছে ঠিকই, কিন্তু প্রধান আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও তাদের ধরা হচ্ছে না। আমার ১১ বছরের মেয়েটার নিরাপত্তা নিয়ে আমি এখন শঙ্কিত।
উল্লেখ্য যে, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথে প্রধান আসামি জাহিদ হাসান সাম্পাকে দীর্ঘ দিন ধরে উত্যক্ত করে আসছিল। গত ৭ এপ্রিল সকালে সাম্পা স্কুলে যাওয়ার সময় জাহিদ ও তার সহযোগীরা তাকে জোরপূর্বক একটি সবুজ রঙের অটো/ সিএনজিতে তুলে নিয়ে যায়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী থাকলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত মূল অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করতে পারেনি।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার ওসি শাহিনুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে থানায় একটি অপহরণ মামলা হয়েছে। মামলা মূলে একজনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং বাকিদের ধরার চেষ্টা চলছে।
তবে কবে নাগাদ শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস মেলেনি।
ভুক্তভোগী পরিবার এবং এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে মূল আসামিদের গ্রেফতার করে সাম্পাকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। অন্যথায় এলাকাবাসী বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে।
মন্তব্য করুন