মো, সোহেল রানা: নিহত পুলিশ কনস্টেবল সেই খবরটা যেনো শুধু একটা মৃত্যুর গল্প নয়; এটা এক নীরব আর্তনাদ, এক অদেখা যুদ্ধের পরাজয়ের কাহিনি। একজন কনস্টেবল একজন বাবা, একজন স্বামী, একজন স্বপ্নবাহী মানুষ এবং দিন শেষে রাষ্ট্র ও সাধারণ জনগনের সেবক।হঠাৎ করেই নিজেকে সরিয়ে নিলেন এই জীবনের মঞ্চ থেকে। রেখে গেলেন কিছু প্রশ্ন, কিছু অপরাধবোধ, আর অসংখ্য অপূর্ণতা।পুলিশের ইউনিফর্মটা বাইরে থেকে যতটা দৃঢ়তার প্রতীক মনে হয়, ভেতরে ততটাই ক্লান্তি, চাপ আর অব্যক্ত কষ্ট জমা। দিনের পর দিন ডিউটির চাপ, রাতজাগা দায়িত্ব, সীমিত বেতনে সংসারের হিসাব মেলানো; সবকিছু মিলিয়ে এক অদৃশ্য ভার বুকের ভেতর জমে থাকে । তবুও পুলিশ হাসে, কারণ সে জানে তার ভেঙে পড়ার অধিকার নেই। তার কাঁধে পরিবারের স্বপ্ন, সন্তানের ভবিষ্যৎ, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দায়ীত্ব ও রাষ্ট্রের পাহারাদার ।পুরুষ মানুষটা আসলে নিজের জন্য খুব কমই বাঁচে। সে বাঁচে দায়িত্বের কাছে, সম্পর্কের কাছে, ভালোবাসার কাছে। কিন্তু যখন সেই সম্পর্কেই ফাটল ধরে, যখন বিশ্বাস ভেঙে যায়, যখন প্রিয় মানুষটাই হয়ে ওঠে অচেনা; তখন সেই শক্ত মানুষটাও ভেতরে ভেতরে ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। স্ত্রীর অবিশ্বাস, পারিবারিক কলহ—এসব ক্ষত বাইরে থেকে দেখা যায় না, কিন্তু ভেতরে গভীর রক্তক্ষরণ হয় যা বাহিরে থেকে কেউ না পায় দেখতে না পারে বুঝতে তবুও পাড়ি দিতে হয় অনেক পথ।
জীবন শেষ করে দেওয়া কোনো সমাধান নয় মোকাবিলা করা ও সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার নামই জিবন সংসার । মৃত্যু এটা মুহূর্তে সম্ভব , যা চিরস্থায়ী শূন্যতা তৈরি করে দেয়। প্রয়োজন হলে তিক্ততা সম্পর্ক থেকে সরে আসা ভালো ,জিবন নতুন করে শুরু করা যায়, নিজের জন্য বাঁচার অধিকারটুকু ফিরে পাওয়া যায়। ডিভোর্স হয়তো কষ্টের, কিন্তু মৃত্যু কখনোই সমাধান নয়; মৃত্যু শুধু সবকিছুর দরজা চিরতরে বন্ধ করে দেয়।এই ঘটনাগুলো আমাদের ভাবায় আমরা কি সত্যিই আমাদের আশেপাশের মানুষগুলোর খোঁজ রাখছি? আমরা কি শুনছি তাদের নীরব কান্না? যে প্রশাসন রাত দিন পরিশ্রম করে ইউনিফর্ম পরে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন, তাদের ও একটু নিরাপত্তা দরকার; মানসিক নিরাপত্তা, সহানুভূতি আর বোঝাপড়ার। কারণ, শক্ত মানুষগুলোও একসময় ক্লান্ত হয়ে পড়ে আর তখন তাদেরও দরকার হয় একটি আশ্রয়, একটি নির্ভরতার হাত। নারী কখনো কি ভাবো তোমার সুখের জন্যই ওই অসহায় পুরুষ দিনে দিনে নিজেকে শেষ করে দেয়। তাই নারীদের কাছে পুরুষদের চাওয়া পুরুষ কে বুঝতে শিখো দুঃখ কষ্টের কিছুটা ভাগ নিলে সমাজ ও পরিবারের সুখ ফিরবে তবেই সম্ভব হবে একটি সুখী পরিবার গড়া।
মন্তব্য করুন