মোঃ আখতারুজ্জামান তিতাস, গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের গঙ্গাচড়ায় এক ইউপি চেয়ারম্যান বিএনপিতে যোগদান করলেও নৌকা মার্কার চেয়ারম্যান হওয়ায় তার অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) অফিস কক্ষে বৃহস্পতিবার অবরুদ্ধ করে এনসিপির নেতৃবৃন্দ। এ সময় তারা চেয়ারম্যানকে দ্রুত অপসারণসহ গ্রেপ্তারের দাবি জানায়। জানা যায়, উপজেলার বেতগাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মোহাইমিন ইসলাম মারুফ নৌকা প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তিনি বেতগাড়ী ইউনিয়ন সভাপতি ছিলেন। জুলাই ৩৬ আন্দোলনে শেখ হাসিনার পতনের পর সহিংসতা ও নাশকতার মামলায় মারুফ আসামী হয় এবং চেয়ারম্যান পদ থেকে সরকার তাকে অপসারণ করে ও ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। এদিকে মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কিছুদিন জেলে থাকার পর মারুফ জামিনে বের হয়। পরবর্তীতে মারুফ আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করে এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাস খানেক আগে বিএনপিতে যোগদান করেন। গত ৩১ মার্চ রংপুর জেলা প্রশাসক স্বাক্ষরিত পত্রে মোহাইমিন ইসলাম মারুফকে চেয়ারম্যান পদে বহাল করে। এরপর মারুফ ইউনিয়ন পরিষদে যোগদান করেন। ইউনিয়ন পরিষদে যোগদানের দিন উপজেলা এনসিপি নেতা জীবনের নেতৃত্বে এনসিপির নেতৃবৃন্দ ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে পূর্ণবাসনের নিন্দা জানিয়ে চেয়ারম্যান মারুফকে অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবি জানায়। চেয়ারম্যানকে অপসারণ ও গ্রেপ্তারে সময় দেয়। এ সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে এনসিপির নেতৃবৃন্দ আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেয়। অপরদিকে পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন বৃহস্পতিবার প্রস্তুতিমূলক সভা ডাকে। নিয়ম অনুযায়ী সকল ইউপির চেয়ারম্যান/প্রশাসকগণ সে সভায় উপস্থিত থাকার জন্য পত্র পাবেন। তাই ইউপি চেয়ারম্যান মোহাইমিন ইসলাম মারুফ ওই সভায় যোগদানের জন্য উপজেলা পরিষদ আসেন। সভা শেষ হয়ে আসায় মারুফ ইউএনও’র অফিস কক্ষে যান ইউএনও’র সাথে দেখা করার জন্য। এনসিপির নেতৃবৃন্দ বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা এনসিপির সাবেক প্রধান সমন্বয়কারী রিফাত চৌধুরীর নেতৃত্বে এনসিপি নেতা জীবন, জাহানুর, তৈয়ব, রাদিদ, আহাদসহ অন্যরা ইউএনও অফিসে প্রবেশে দরজার সামনে বসে পড়েন। ইউএনও অফিসে থাকা চেয়ারম্যান মারুফ অবরুদ্ধ হন। এনসিপি নেতৃবৃন্দ এ সময় ইউএনও’র কাছে দাবি জানায় তাকে দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা গ্রহনসহ গ্রেপ্তারের। তারা ওসিকেও ফোন করে মারুফকে গ্রেপ্তারের জন্য। ১ ঘন্টার বেশি সময় চেয়ারম্যান ইউএনও অফিসে অবরুদ্ধ থাকেন। পরে ইউএনও জেসমিন আক্তার বের হয়ে এনিসিপির নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে আরেক সভায় যোগদানের জন্য চলে যান। এরপরই ইউপি চেয়ারম্যান মোহাইমিন ইসলাম মারুফ বের হলে এনসিপি নেতৃবৃন্দ বাধা প্রদান করে তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানালে ইউপি সদস্যরা এগিয়ে এসে চেয়ারম্যানকে টেনে নিয়ে যেতে ধরলে সেখানে উভয় পক্ষ বাকবিতন্ডা হয় এবং এক পর্যায় এনসিপি নেতা রিফাত চৌধুরী উপস্থিত থাকা সাংবাদিকদের ডেকে বলেন, জুলাই বিপ্লব তথা ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরোধিতাকারী ফ্যাসিবাদের দোসরকে কোনভাবে পূর্ণবাসন হতে দিবনা। এখন তিনি যে দলেই যাকনা কেন তার বড় পরিচয় হলো নৌকার চেয়ারম্যান। তাই নৌকার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পরে মারুফকে বাধা প্রদান থেকে বিরত থাকলে মারুফ তার পরিষদের সদস্যদের নিয়ে চলে যান। এনসিপি নেতা জীবন, তৈয়ব ও জাহানুর বলেন, ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হলে জুলাই বিপ্লব হারিয়ে যাবে। রক্তে রঞ্জিত ও শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময় ৩৬ জুলাই কুলুসিত হতে দিবনা। আমরা তার অপসারণ ও গ্রেপ্তারের জন্য দাবি করছি। তারা আরো বলেন, তার পরিষদের সদস্যরা অনাস্থা এনে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আবেদন দিলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ইউপি চেয়ারম্যান মোহাইমিন ইসলাম মারুফ বলেন, আমি আগে আওয়ামী লীগ করলেও সাংবাদিক ডেকে ঘোষণা দিয়ে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগদান করি। আমার মত দেশে আরো নেতাকর্মী বিভিন্ন দলে যোগদান করেছে। একজন ব্যক্তির ব্যক্তি স্বাধীনতা আছে। তারা ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে। তিনি আরো বলেন, আমার ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এনসিপিতে যোগদান করেছে। আমি কোন অন্যায় করেনি বা জড়িত ছিলাম না। অন্যায় করলে আইন অনুযায়ী আমার অপসারণ হবে, বিচার হবে। কিন্তু আইন কারো হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয়। আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে আমাকে চেয়ারম্যান পদে বহাল করা হয়েছে। ইউএনও জেসমিন আক্তার বলেন, আমি জেলা প্রশাসকের পত্রের মাধ্যমে জানতে পারি বেতগাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান মোহাইমিন ইসলাম মারুফ বহাল হয়েছেন। এছাড়া চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সদস্যদের অনাস্থা বিষয় বিধি মোতাবেক আমি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন