শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন আঞ্চলিক পাকা সড়কে ধান ও খড় শুকানোর প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এতে করে যেকোনো সময় বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এসব সড়কে ট্রাক, মিনিবাস, মোটরসাইকেল, রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক চলাচল করলেও সড়কের ওপর ধান-খড় ছড়িয়ে রাখায় যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।
গত বুধবার দুপুরে সরেজমিনে উপজেলার রাজাবাড়ী-প্রহলাদপুর-ডুমনি সড়কের কয়েক কিলোমিটারজুড়ে একই চিত্র দেখা যায়। সড়কের বিভিন্ন অংশে স্থানীয় কৃষক-কৃষাণীরা ধান ও খড় শুকাচ্ছেন। কোথাও কোথাও সড়কের ওপরই ধান মাড়াইয়ের কাজ চলছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাড়ির কাঁচা মাটিতে ধান-খড় শুকাতে বেশি সময় লাগে। পাশাপাশি বৃষ্টি বা ঝড়ে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। এসব কারণে দ্রুত ও তুলনামূলক নিরাপদ মনে করে তারা পাকা সড়কেই ধান-খড় শুকান। অনেকের বাড়ি সড়কের পাশেই হওয়ায় এ পদ্ধতিকে তারা সুবিধাজনক হিসেবে দেখছেন।
তবে পথচারী ও যাত্রীদের অভিযোগ, নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে সড়কের ওপর ধান-খড় শুকানোয় চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সড়কগুলো যেন যান চলাচলের পথ না হয়ে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জায়গায় পরিণত হয়েছে।
গাজীপুর জেলা আদালতের আইনজীবী সফিকুল ইসলাম বলেন, “ধান শুকানোর জন্য সড়ক ব্যবহার করা ঠিক নয়। এই আঞ্চলিক সড়কগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি নিয়মিত শ্রীপুর থেকে আদালতে যাতায়াত করি। সড়ক সংকীর্ণ হওয়ায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামীণ সড়কগুলোতেও একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সড়ক সংকীর্ণ হওয়ায় অনেক স্থানে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছেন চালকরা। এমনকি কৃষক পরিবারের শিশুদেরও সড়কের ওপর কাজ করতে দেখা যাচ্ছে, যা তাদের জন্যও বড় ধরনের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, “আমরা সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেব। কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়—এমন কাজ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হবে।”
শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন বলেন, “সড়কে ধান শুকানো আইনত অপরাধ এবং এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে যে কোনো সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
মন্তব্য করুন