কামরুল আহসান সোহাগ, পিরোজপুর: পিরোজপুরে জিয়ানগরে বাল্যবিবাহে রাজি না হয়ে পিতামাতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে থানায় আশ্রয় নেওয়া স্কুল শিক্ষার্থীকে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সাহসিকতার নজির স্থাপন করায় ‘কন্যা সাহসিকতা’ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। তহমিনা আক্তার নামে ওই এসএসসি পরীক্ষার্থীকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু সাইদ তার কার্যালয়ে সম্মাননার আয়োজন করে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন তহমিনা আক্তারের হাতে। পাশাপাশি সনদপত্র এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। এ সময় তহমিনার পিতা-মাতা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, তহমিনার পিতা-মাতা তার মতামতের বিরুদ্ধে বিয়ের আয়োজন করলে সে তাতে দৃঢ়ভাবে আপত্তি জানায়। পরিবারের চাপ সহ্য করতে না পেরে অবশেষে গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) সে জিয়ানগর থানায় আশ্রয় নেয়। বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ দ্রুত উদ্যোগ নেন। তাদের হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহের কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত করা হয় এবং তহমিনার পিতা-মাতার কাছ থেকে এ ধরনের কাজ পুনরায় না করার বিষয়ে মুচলেকা নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, তহমিনা আক্তার পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের চাড়াখালী গ্রামের আলম হাওলাদারের মেয়ে এবং সরকারি সেতারা স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী।
সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক বলেন, বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি, যা নির্মূলে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এটি নির্মূল করা সম্ভব। তিনি এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট সকলকে কঠোর অবস্থান গ্রহণের অনুরোধ করেন এবং বাল্যবিবাহের বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক করেন। পাশাপাশি তহমিনা আক্তারকে ধন্যবাদ জানান।
তহমিনা আক্তারের এই সাহসী উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে সচেতন মহল মনে করেন।
মন্তব্য করুন