মিজানুর রহমান, শিবগঞ্জ (বগুড়া): বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নের কৃতি সন্তান ডাঃ মোছাঃ নাসরিন জেবিন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় মেডিকেল সেন্টারের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আর এম ও) হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। তার এই সাফল্যে কিচকসহ পুরো শিবগঞ্জ উপজেলায় আনন্দের জোয়ার বইছে।
তিনি শিবগঞ্জ উপজেলার প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও কিচক ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সফল চেয়ারম্যান মুনজুর আলম ফকিরের সুযোগ্য কন্যা।
ডাঃ নাসরিন জেবিনের শিক্ষাজীবন অত্যন্ত উজ্জ্বল। তিনি বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে
গোল্ডেন প্লাস এবং বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ থেকে এইচএসসিতে গোল্ডেন প্লাস (স্টার মার্কস) নিয়ে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে তিনি দেশের অন্যতম শীর্ষ চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস এবং ঢাকা পিজি হাসপাতাল (বিএসএমএমইউ) থেকে উচ্চতর স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
২৬তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের মাধ্যমে তিনি তার পেশাগত জীবন শুরু করেন। তার প্রথম কর্মস্থল ছিল নিজ উপজেলা শিবগঞ্জ। এরপর তিনি পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিডফোর্ড) হাসপাতাল, মিরপুর ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়াও তিনি ঢাকার মিরপুর হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ, শ্যামলী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টিবি হাসপাতাল এবং গাজীপুরের টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছেন। প্রশাসনিক দক্ষতায় পারদর্শী ডাঃ নাসরিন জেবিন কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরবর্তীতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মেডিকেল সেন্টারে আবাসিক মেডিকেল অফিসার (RMO) হিসেবে কর্মরত আছেন।
এক সম্ভ্রান্ত ও রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা ডাঃ নাসরিন জেবিনের এই সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন শিবগঞ্জের বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা আশা প্রকাশ করেন, তিনি তার মেধা ও শ্রম দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে দেশের মানুষের সেবা অব্যাহত রাখবেন।
নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে ডাঃ নাসরিন জেবিনের বড়-ভাই ইন্জিনিয়ার ইমরান হোসেন ফরহাদ জানান, তিনি শুধু কিচকের নয়, বরং পুরো বগুড়া জেলার গর্ব। তার এই পদোন্নতি নারী শিক্ষার অগ্রযাত্রায় স্থানীয় তরুণীদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।