হেলাল আহমেদ : বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিগত অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের সময়কার চুক্তিগুলো নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া অসন্তোষ ও স্বচ্ছতার দাবি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। জনগণের মৌলিক প্রশ্ন হলো যদি কোনো চুক্তি দেশের স্বার্থের পরিপন্থী বা ‘দেশবিরোধী’ হয়ে থাকে, তবে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার কেন তা প্রকাশ করছে না বা বাতিলের কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না? এই বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার হওয়া জরুরি।
একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণই রাষ্ট্রের মালিক। তাই রাষ্ট্র অন্য কোনো দেশের সাথে কী ধরনের প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ হচ্ছে, তা জানার পূর্ণ অধিকার জনগণের রয়েছে। বিগত সরকারের আমলে সম্পাদিত চুক্তিগুলো নিয়ে যখন ‘দেশবিরোধী’ হওয়ার অভিযোগ ওঠে, তখন সরকারের নীরবতা বা গোপনীয়তা জনমনে সন্দেহের দানা আরও ঘনীভূত করে। তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত না করলে গুজব ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়, যা স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ।
যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক (গড়ট) বাতিলের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল। আন্তর্জাতিক আইনের জটিলতা, ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতির ঝুঁকি বিবেচনা করে সরকার হয়তো হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। তবে যদি কোনো চুক্তি স্পষ্টভাবে দেশের সার্বভৌমত্ব বা অর্থনৈতিক স্বার্থকে ক্ষুণ্ণ করে, তবে জাতীয় সংসদে সেই চুক্তির ত্রুটিগুলো তুলে ধরে তা সংস্কার বা বাতিলের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।
জনগণ যখন রাজপথে বা সামাজিক মাধ্যমে প্রতিবাদ জানায়, তখন বুঝতে হবে সরকারের প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। নির্বাচিত সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসে; তাই তাদের প্রতিটি কাজ জনস্বার্থের প্রতিফলন হওয়া উচিত। বিগত সরকারের কাজের দায় বর্তমান সরকার নেবে না এটিই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই কাজগুলো যদি ত্রুটিপূর্ণ হয়, তবে তা সংশোধন না করা বর্তমান সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতা হিসেবেই গণ্য হবে।
পরিশেষে বলবো দেশপ্রেম কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়, এটি কর্মের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হয়। বর্তমান সরকারের উচিত অবিলম্বে বিতর্কিত চুক্তিগুলো শ্বেতপত্র আকারে প্রকাশ করা এবং বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে সেগুলোর জাতীয় গুরুত্ব যাচাই করা। যদি কোনো চুক্তি সত্যিই দেশবিরোধী প্রমাণিত হয়, তবে তা বাতিলের সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে। গোপনীয়তা নয়, বরং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাই পারে জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে।
মন্তব্য করুন